হরমুজে অভিযান চলবে যতদিন ইরান ধ্বংস না হয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলবে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent। সংবাদ সংস্থা Al Jazeera এবং এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযান ইতোমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর পাশে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলোকে দুর্বল করতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্যটি শুধু সাময়িক ক্ষতি নয়, বরং এমনভাবে আঘাত করা যাতে ইরান আরও বড় ধরনের সামরিক হুমকি তৈরি করতে সক্ষম না হয়। এ প্রক্রিয়া চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হামলার ধরন, লক্ষ্য এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

একই সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট চলমান যুদ্ধ ও মিডিয়ার প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে ‘সঠিক চিত্র’ দেখানো হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, দেশটির বর্তমান প্রশাসন যুদ্ধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পুরোপুরি掌握 করেছে এবং কার্যক্রমের লক্ষ্য স্পষ্ট। মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর Chris Murphy-র অভিযোগ যে ট্রাম্প প্রশাসন ‘যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ এবং ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে’, বেসেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভুল। আমরা ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ধ্বংস করেছি এবং অভিযানের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য অগ্রগতি করছে।’

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে উল্লেখ করছেন, হরমুজ প্রণালীর এই ধরনের উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্বে তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। হঠাৎ কোনো সামরিক উত্তেজনা বা নৌ পরিবহনে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর ফলে তেলের দাম বাড়তে পারে এবং এশিয়া-ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রভাব পরতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের কাঁচা তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখান দিয়ে পরিবহন হয়। এই প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়তে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান কেবল প্রতিরক্ষা উদ্দেশ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।

অপরদিকে, হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা ও সামরিক অভিযানের খবর বিশ্বের নানা সংবাদ মাধ্যমে সম্প্রচারিত হলেও সেখানে অনেক সময় তথ্যের পূর্ণতা এবং প্রেক্ষাপট প্রদর্শিত হয় না। বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, মিডিয়ার চিত্র প্রায়শই অভিযানের বাস্তবতা ও কৌশলগত ব্যাখ্যা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, জনগণকে যথাযথ এবং পরিমিত তথ্য দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের সংঘাত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরান হুমকি দিয়েছে, তেলের পরিবহনে বাধা তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘটতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী রাখার মাধ্যমে ইরানের সামরিক কার্যক্রম সীমিত করতে চায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং কূটনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি কৌশল।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টি সম্পূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার দিকে। কোনো সামরিক উত্তেজনা বা আঘাত এখানে শুধু অঞ্চল নয়, বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের গ্লোবাল মার্কেট, আন্তর্জাতিক পরিবহন এবং অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সংঘাত ও অভিযানের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, যে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে ন্যূনতম বেসামরিক ক্ষতি নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়াই জরুরি।

সবমিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান, ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটি ধ্বংস পর্যন্ত অব্যাহত রাখার ঘোষণা এবং মিডিয়ার চিত্রের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এই সংকটের সমাধানকে নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত