মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, ইতিহাসকে ছোট করা যাবে না: তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার
মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, ইতিহাসকে ছোট করা যাবে না: তারেক রহমান

প্রকাশ: ২৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী Tareq Rahman বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি ছিল এক জনযুদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করে দেখানো, তার চ্যালেঞ্জকে কমিয়ে আনা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী Mirza Fakhrul Islam Alamgir। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং দলের প্রচার সম্পাদক Sultan Salauddin Tuku সভার পরিচালনা করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. Khandakar Mosharraf Hossain, ড. Abdul Moin Khan, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা Nazrul Islam Khan, অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক Dr. Mahbub Ullah এবং দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতা ও বিশিষ্টজনরা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক Wakil Ahmed, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক Mamun Ahmed এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ABM Obaidul Islam। আলোচনা সভার শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman, সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি Maulana Nesarul Haque।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীত নিয়ে একপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিতে আটকে থাকলে এক চোখ অন্ধ হয়, আর অতীত সম্পূর্ণভাবে ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ হয়ে যায়। অতীতকে ভুলে যাওয়া যাবে না, আবার অতীত নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা ভবিষ্যতকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা নিয়ে সমালোচনা ও গবেষণার অধিকার থাকলেও, ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জিয়ার লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্তির মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই। তখন মুক্তিযোদ্ধারা সেই প্রবন্ধ নিয়ে কোনো বিরোধিতা করেননি। এটি প্রমাণ করে শহীদ জিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য চরিত্র ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া প্রথমে একজন সামরিক সৈনিক ছিলেন, তবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও চিন্তাভাবনা তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সভায় তিনি বিএনপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানান, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশের জন্য স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ যদি সহাবস্থানের মাধ্যমে খারাপকে দূরে ঠেলে ভালো থাকার চেষ্টা করে, তবে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসাথে এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল্যে সর্বাধিক উপলব্ধি করতে পারে শুধু সেই মানুষজন, যারা যুগে যুগে সংগ্রাম করেছেন। ফিলিস্তিনের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মর্যাদা উপলব্ধি করতে হলে ইতিহাসকে জানা ও বুঝতে হবে। ১৯৭১ সালে হাজার হাজার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, ২০২৪ সালে প্রতিরোধ গড়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা— এ সবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শহীদ স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে লড়াই করেছেন। ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া সকল শহীদ ও প্রতিরোধকারীদের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই লক্ষ্যই এখন দেশের নাগরিকদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত