প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান প্রতিযোগিতা ডিপিএল ও প্রথম বিভাগ লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে খেলোয়াড়, ক্লাব কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মহলে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা বহু ক্রিকেটারের আয়ের বড় একটি উৎস এই ঘরোয়া লিগগুলো। বিশেষ করে যারা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (BPL) সুযোগ পান না, তারা সারা বছর অপেক্ষা করেন এই প্রতিযোগিতার জন্য। তবে চলতি মৌসুমে Dhaka Premier League মাঠে না গড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা খেলোয়াড়দের জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) সাম্প্রতিক নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে ঢাকার বেশিরভাগ ক্লাব। এই অভিযোগের জের ধরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ বর্তমান বোর্ডের অধীনে ডিপিএল ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অংশ না নেওয়ার অবস্থান থেকে এখনো সরে আসেনি। ফলে ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো কার্যত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে Bangladesh Cricket Board। তবে সেটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর সমাধান হয়ে ওঠেনি। ফলে মাঠে ক্রিকেট ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান Iftikhar Rahman Mithu স্পষ্ট ভাষায় খেলাকে জিম্মি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত মতামত থেকে হলেও খেলাকে আলাদা রাখা জরুরি। তার মতে, যে কোনো ধরনের বিরোধ থাকতেই পারে, তবে সেই বিরোধের প্রভাব যেন খেলাধুলার ওপর না পড়ে।
মিঠু আরও উল্লেখ করেন, ক্রিকেট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং বহু খেলোয়াড়ের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি বলেন, যারা জাতীয় দলে বা বিপিএলে নিয়মিত সুযোগ পান না, তাদের জন্য ঘরোয়া লিগই প্রধান আয়ের উৎস। তাই এই লিগগুলো বন্ধ থাকলে খেলোয়াড়দের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে Bangladesh Premier League যেমন জনপ্রিয় এবং আয়ের একটি বড় ক্ষেত্র, তেমনি ডিপিএল দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। এই দুইয়ের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য ডিপিএল একটি নির্ভরযোগ্য মঞ্চ, যেখানে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পথও তৈরি হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাব ও বোর্ডের মধ্যে সমঝোতা না হলে পুরো ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খেলোয়াড়দের অনিশ্চয়তা, ক্লাবগুলোর অবস্থান এবং বোর্ডের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার সমাধান সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানো না গেলে এর প্রভাব শুধু চলতি মৌসুমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ কমে গেলে তাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এমন অবস্থায় বিসিবির পক্ষ থেকে ক্লাবগুলোর সঙ্গে কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলাকে রাজনীতির বাইরে রেখে মাঠে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।