ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তথ্য উঠে এসেছে। The Washington Post রোববার (২৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানায়, এই সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্থল হামলা প্রচলিত যুদ্ধ কৌশলের মতো হবে না, বরং বিশেষায়িত ইউনিট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি এমন এক ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হতে পারে যা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূচনা না করলেও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি Karoline Leavitt সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে কমান্ডার ইন চিফ সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিকল্পনা করা মানেই প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন—এমন নয়।

প্রসঙ্গত, United StatesIran এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য স্থল হামলায় সরাসরি বড় আকারের বাহিনী নামানোর পরিবর্তে বিশেষ বাহিনী ও কামান ইউনিট ব্যবহার করে দ্রুত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধরনের অভিযানকে সাধারণ স্থল যুদ্ধের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ এতে হঠাৎ আক্রমণ এবং সীমিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কৌশল অনুসরণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অভিযানে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আর্টিলারির পাশাপাশি উচ্চ প্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে একই সঙ্গে এসব বাহিনী পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়ার ঝুঁকিতেও থাকবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে Kharg Island, যা Strait of Hormuz-এর কাছে অবস্থিত। এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয় বলে ধারণা করা হয়। ফলে এই অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে।

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময়সীমা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ক্ষেত্রে লজিস্টিক সাপোর্ট, সৈন্য নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এর আগে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির খবরও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এই তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং সংঘাতের তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই স্থল হামলার দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে তা শুধু Iran নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

The White House এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত দিলেও সামরিক প্রস্তুতি চলমান থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক প্রস্তুতি—দুইটি প্রক্রিয়াই পাশাপাশি চলতে থাকায় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সম্ভাব্য অভিযান শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেলের বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো এতে প্রভাবিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার প্রস্তুতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করবে কূটনৈতিক উদ্যোগ, সামরিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কৌশলগত অবস্থানের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত