দেশের ক্রীড়াবিদদের স্বীকৃতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
দেশের ক্রীড়াবিদদের স্বীকৃতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা ও স্বীকৃতি প্রদান করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (৩০ মার্চ) তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে দেশের ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া ভাতা, ক্রীড়া কার্ড এবং মেডেল বিতরণ করেছেন। এটি ছিল বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, যা ক্রীড়াবিদদের অর্জন এবং প্রতিভাকে সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তাদের অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।

মাসিক বেতন কাঠামোর আওতায় প্রদত্ত এই ক্রীড়া ভাতার পরিমাণ প্রতি ক্রীড়াবিদের জন্য এক লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছে যায়। এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের অর্জনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যাদের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদক জয় করার গৌরব অর্জিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে স্বর্ণ পদক জয়ীদের তিন লাখ, রৌপ্য পদক জয়ীদের দুই লাখ এবং ব্রোঞ্জ পদক জয়ীদের এক লাখ টাকা প্রদান করেছেন। দলগতভাবে স্বর্ণ জয়ীদের দুই লাখ, রৌপ্য জয়ীদের দেড় লাখ এবং ব্রোঞ্জ জয়ীদের এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা হিসেবে একটি করে ক্রীড়া কার্ড এবং মেডেল তুলে দেওয়া হয়। এই আয়োজন ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ এবং তাদের আন্তর্জাতিক সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ক্রীড়াবিদরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অনুষ্ঠানে বলেন, “ক্রীড়া শুধু শারীরিক চর্চা নয়, এটি দেশের জন্য গৌরব ও আন্তর্জাতিক পরিচয় বহন করে। ক্রীড়াবিদদের এই অর্জন জাতির জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা চাই, তারা আরও উচ্চতায় পৌঁছাক এবং বাংলাদেশকে গর্বিত করুক।” এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক উৎসাহ, সমন্বয় এবং প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে ক্রীড়াবিদরা শুধুমাত্র আর্থিকভাবে সুরক্ষা পাচ্ছেন না, বরং তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতিও নিশ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জয়ীদের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগ্রত হচ্ছে। প্রতি মাসে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে বলে সরকার জানিয়েছে, যা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ক্রীড়াবিদরা অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ তাদের জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণার উৎস। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও স্বীকৃতি তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এতে করে দেশের ক্রীড়াবিদরা আরও মনোবল বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্বে আরও উৎসাহী হবেন।

দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল বর্তমান ক্রীড়াবিদদের জন্য নয়, ভবিষ্যতের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। ক্রীড়া ভাতা, মেডেল এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদানের মাধ্যমে তাদের অবদানকে সরকার প্রমাণিতভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা জাতির ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের এই অর্জন এবং সরকারের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াখাত আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ক্রীড়াবিদদের আত্মবিশ্বাস, উৎসাহ ও সাফল্যের প্রতি এই সরকারের মনোযোগ আগামীতে দেশের ক্রীড়ার মান এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় বাংলাদেশের অবস্থানকে দৃঢ় করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত