মৌ চাষে বৈশ্বিক আলোচনায় যুক্ত বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
মৌ চাষে বৈশ্বিক আলোচনায় যুক্ত বাংলাদেশ

প্রকাশ: ৩০ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেপালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলন ২০২৬, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, মৌ চাষ বিশেষজ্ঞ, কৃষিবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশগ্রহণ করবেন। আধুনিক কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবস্বাস্থ্যের সঙ্গে মৌমাছির সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ থেকে ১০ এপ্রিল। সম্মেলনের ভেন্যু নেপালের অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। এর আগে ৫ এপ্রিল নিবন্ধন ও প্রাক্‌সম্মেলন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আয়োজনের সূচনা হবে।

‘মডার্ন বিকিপিং প্র্যাকটিসেস ফর হিউম্যান হেলথ, সাসটেইনেবল ক্রপ প্রোডাকশন, অ্যান্ড লাইভলিহুড’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে মৌ চাষের আধুনিক পদ্ধতি, পরিবেশবান্ধব কৃষি উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৌমাছির ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মৌমাছি শুধু মধু উৎপাদনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কৃষিতে পরাগায়নের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

সম্মেলনে মৌমাছির জীববিজ্ঞান, রোগব্যাধি প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরাগায়ন প্রক্রিয়া এবং মৌ-পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মধু, মৌমোম, প্রপোলিসসহ বিভিন্ন মৌ-পণ্যের স্বাস্থ্যগুণ, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের দিকগুলো নিয়েও আলোচনা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৌ চাষ কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশ থেকেও অংশ নিচ্ছেন দুইজন গবেষক। তারা হলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আতিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রামের আলওয়াল মধু জাদুঘর ও গবেষণাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল আনোয়ার। তাদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের মৌ চাষ গবেষণা ও প্রাকৃতিক মধুর বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল আনোয়ার জানিয়েছেন, এই সম্মেলনে তিনি সুন্দরবনের মধুর সংগ্রহপদ্ধতি, এর বৈশিষ্ট্য এবং সংগ্রহের সময় মৌয়ালদের ঝুঁকি নিয়ে একটি পোস্টার উপস্থাপন করবেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের মধু প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং এর স্বাদ, গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সম্প্রতি ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর সুন্দরবনের মধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি পরিচিতি পাচ্ছে। এই সম্মেলনে তা উপস্থাপন করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মনে করেন তিনি।

গবেষকরা মনে করেন, সুন্দরবনের মধু শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস। মৌয়ালরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন থেকে মধু সংগ্রহ করেন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে সুন্দরবনের মধুর বিষয়টি তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক মধুর সবচেয়ে বড় উৎস এবং এই অঞ্চলের মৌ চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং গবেষণাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে ভেজাল মধু প্রতিরোধ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্বব্যাপী মৌমাছির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ, কীটনাশকের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌমাছির আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে খাদ্য উৎপাদনের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে মৌ চাষ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে মৌ চাষ শুরু করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মধু উৎপাদন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মৌ চাষ থেকে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। পাশাপাশি এটি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলন ২০২৬ গবেষকদের জন্য জ্ঞান বিনিময় এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার একটি বড় সুযোগ। এতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের গবেষকরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন এবং দেশে আধুনিক মৌ চাষ সম্প্রসারণে নতুন ধারণা নিয়ে আসতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে টেকসই কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মৌ চাষের গুরুত্ব আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত