দুবাই বন্দরে ইরানি হামলায় জ্বালানি জাহাজে আগুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
দুবাই বন্দরে ইরানি হামলায় জ্বালানি জাহাজে আগুন ধরে যায়, তেল ছড়ানোর শঙ্কা সৃষ্টি হয়, ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে সোমবার (৩০ মার্চ) জ্বালানি তেলবোঝাই একটি বিশাল জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এর মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও, জাহাজ থেকে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ এবং সামুদ্রিক জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাটি ড্রোন ব্যবহার করে চালানো হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে নৌ-অগ্নিনির্বাপক দলের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ হামলার ঘটনার সময় আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলো কারণ এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছিলেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনিগুলো ধ্বংস করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আক্রমণ শুরু করার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকে। ‘আল-সালমি’ নামের কুয়েতি জাহাজে এই হামলা সেই উত্তেজনার সর্বশেষ উদাহরণ। দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, এতে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা (কেইউএনএ) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় আল-সালমি জাহাজে ইরানি হামলা হয়। হামলার ফলে জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং সতর্ক করেছে, তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। হামলায় কেউ হতাহত হয়নি এবং জাহাজের ২৪ জন ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

হামলার খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। আক্রান্ত জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল, যার বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি। পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও তিনি যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী, এবং সামরিক পদক্ষেপ এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

দুবাইতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান আছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক জাহাজবাহী বাণিজ্য, তেলের বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশই এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি পারস্য উপসাগরে হামলার ঘটনা চলতে থাকে, তবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ব্যাহত হবে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, তেলের ছড়ানো সামুদ্রিক জীবন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই হামলা এবং আগের সংঘর্ষগুলোতে পরবর্তীতে কূটনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলো। পাশাপাশি, তেলের দাম এবং বাণিজ্যিক সরবরাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সারসংক্ষেপে, দুবাই বন্দরে আল-সালমি জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। হামলার কারণ, জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি, তেলের সম্ভাব্য ছড়ানো এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবই এখন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত