স্পেন মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
স্পেন আকাশসীমা মার্কিন বিমান

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে স্পেন তার আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস সোমবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, স্পেন কোনোভাবেই মার্কিন সামরিক বিমান ও ঘাঁটিকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটা শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। স্পেনের আকাশসীমা যুদ্ধ সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।’

রোবলেস আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় সবাই স্পেনের অবস্থান জানেন। এটা খুবই স্পষ্ট এবং আমরা আমাদের নীতি অটল রাখব।’ স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকে ‘অন্যায্য’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পেনের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইউরোপের সবচেয়ে স্পষ্ট বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্প্যানিশ ঘাঁটি ব্যবহার না করতে পারার কারণে মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে স্পেনের রোটা ও মোরোন ঘাঁটিতে থাকা ১৫টি মার্কিন বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সানচেজ সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, তাদের নীতি অটল থাকবে এবং মানবজমিনে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি না করা পর্যন্ত যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হবে না।

স্পেনের এই অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। যেখানে অন্যান্য দেশগুলো উত্তেজনা হ্রাসের জন্য নরম দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, সেখানে স্পেন সরাসরি ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই মাসের শুরুতে বলেছেন, ‘মানবজাতির বড় বিপর্যয় এভাবেই শুরু হয়। বিশ্ব সংঘাত ও বোমা দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারে না।’

এছাড়া, গাজায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও স্পেনের সমালোচনার ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত অক্টোবরে স্প্যানিশ পার্লামেন্ট ইসরাইলকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আইনে পরিণত করেছে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ায় ইসরাইল স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে স্পেনের মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান একাধিক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্পেনের এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এবং ইসরাইলি অভিযানগুলোর সরাসরি সমর্থন না দেওয়া স্পেনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানবিক প্রেক্ষাপটকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

স্পেনের এই কঠোর নীতি আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার পাশাপাশি সমর্থনও পেয়েছে। অনেক দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থা স্পেনের সিদ্ধান্তকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি ধ্রুবক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেনের এই অবস্থান অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য একটি দিকনির্দেশক হতে পারে, যা কৌশলগতভাবে যুদ্ধের সরাসরি অংশগ্রহণ এড়াতে সাহায্য করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামরিক অভিযানের প্রভাবকে কেন্দ্র করে স্পেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের সরকার ও নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে, তারা কোনোভাবেই এই অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপের অংশ হতে চাইছে না এবং মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত