প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দারুণ পারফরম্যান্স করেও পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার Neymar। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ লিগে Santos FC-এর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও হলুদ কার্ডের কারণে পরবর্তী ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। নিজের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেইমার গোল না পেলেও দুটি গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত Remo-কে ২-০ গোলে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট তুলে নেয় সান্তোস।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় নেইমারকে। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর আবারও ছন্দে ফিরতে মরিয়া এই তারকা ফুটবলার। ম্যাচের ৪০ মিনিটে সান্তোসের মিডফিল্ডার থাসিয়ানোর করা প্রথম গোলের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন নেইমার। ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত লব পাসে রেমোর ডিফেন্স ভেঙে দেন তিনি। বলটি বক্সে পৌঁছালে সঠিক জায়গায় থাকা থাসিয়ানো সেটি জালে জড়ান। গোলের মুহূর্তে নেইমারের পাসের নিখুঁততা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন নেইমার। ম্যাচের ৮২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ডিফেন্সচেরা একটি দারুণ পাস দেন তিনি। সেই পাস ধরে গঞ্জালো এসকোবার বলটি ময়জেসের কাছে বাড়িয়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত গোলটি সম্পন্ন হয়। যদিও অফিসিয়াল হিসেবে সরাসরি অ্যাসিস্ট পাননি, তবে আক্রমণের মূল পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন নেইমারই। ম্যাচজুড়ে তার নড়াচড়া, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ সাজানোর দক্ষতা সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে ঘটে যায় একটি বিতর্কিত ঘটনা, যা নেইমারের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে রেমোর ডিয়েগো হার্নান্দেজ পেছন থেকে কঠোর ফাউল করেন নেইমারকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি Savio Pereira Sampaio নেইমারকে হলুদ কার্ড দেখান। এটি ছিল চলতি মৌসুমে তার তৃতীয় হলুদ কার্ড, যার ফলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
এই নিষেধাজ্ঞা নেইমারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ Carlo Ancelotti বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগে নেইমারের পূর্ণ ফিটনেস ও ম্যাচ ফর্ম দেখতে আগ্রহী। জানা গেছে, সান্তোসের হয়ে অন্তত ১৪টি ম্যাচ খেলার লক্ষ্য ছিল নেইমারের। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম ম্যাচে পুরো সময় মাঠে থাকতে পারায় ইতিবাচক বার্তা মিললেও পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা তার পরিকল্পনায় কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মারাকানায় আগামী রোববার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ Flamengo-এর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে সান্তোস। এই ম্যাচটি ছিল নেইমারের জন্য নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ। হাই-প্রোফাইল ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারত। কিন্তু হলুদ কার্ডের কারণে সেই সুযোগ আপাতত হারালেন তিনি।
ম্যাচ চলাকালে রেমোর সমর্থকরাও গ্যালারি থেকে নেইমারকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। দর্শকদের একটি অংশ তাকে খোঁচা দিয়ে বলে, তিনি নাকি বিশ্বকাপে জায়গা পাবেন না। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি নিজের ক্ষোভের কথাও প্রকাশ করেন।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম স্পোর্টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, তার মতে হলুদ কার্ডটি অন্যায্য ছিল। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় একাধিকবার তাকে ফাউল করেছেন, কিন্তু সেগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে উল্টো শাস্তি পেতে হয়েছে তাকে। রেফারির আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। নেইমারের ভাষ্য অনুযায়ী, রেফারি ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু হতে চেয়েছেন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার আচরণ যথেষ্ট সম্মানজনক ছিল না।
দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর নেইমারের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে হলে তাকে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে। সান্তোসের হয়ে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক হলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে ছন্দে সাময়িক ছেদ পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ লিগে ২০ দলের মধ্যে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে সান্তোস। ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়া দলটির জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। দলের আক্রমণভাগে নেইমারের উপস্থিতি আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও পরের ম্যাচে তাকে না পাওয়ায় কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে গোল না করেও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন নেইমার। তবে একটি হলুদ কার্ডই তাকে পরের ম্যাচ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরে তিনি আবারও নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেন কি না এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করতে পারেন কি না।