সর্বশেষ :
সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের ১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ

হরমুজে বিদেশি হস্তক্ষেপে ইরানের হুঁশিয়ারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২২ বার
হরমুজ প্রণালি ইরান হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও উঠে এসেছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই জলপথকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের আলোচনা চললেও, এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির প্রস্তুতি চলার মধ্যেই তেহরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইরানের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে শান্ত করার বদলে আরও জটিল করে তুলবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে তথাকথিত আগ্রাসী শক্তিগুলোর যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ বর্তমান সংকট নিরসনে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না, বরং পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করবে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বোঝাতে গেলে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্কের কথা উল্লেখ করতে হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ এটি। ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং মূল্যবৃদ্ধির পেছনেও এই অঞ্চলের উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে। এমনকি তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শত্রুভাবাপন্ন কোনো জাহাজকে এই পথ দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। তবে ইরান এই উদ্যোগকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তেহরানের দাবি, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত উপকূলীয় দেশগুলোর এবং বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ এখানে অপ্রয়োজনীয় ও বিপজ্জনক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু একটি সামরিক বা কূটনৈতিক বিরোধ নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অংশ। একদিকে রয়েছে পশ্চিমা শক্তিগুলোর জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এবং জাহাজ মালিকরা বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন ধরনের চাপ তৈরি করছে। অনেক জাহাজ তাদের রুট পরিবর্তন করছে অথবা যাত্রা বিলম্বিত করছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলছে। এতে করে শুধু জ্বালানি খাত নয়, বরং অন্যান্য পণ্যের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। অনেক দেশই চাইছে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হোক। কারণ সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে।

ইরানের কঠোর অবস্থান এবং জাতিসংঘের উদ্যোগের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকে কি না, নাকি পরিস্থিতি আরও সংঘাতমুখী হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই নতুন উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কৌশল, আঞ্চলিক রাজনীতির বাস্তবতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন—সবকিছু মিলিয়ে এই সংকটের সমাধান সহজ হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত