চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জ্বালানি জাহাজ, বাড়ছে সরবরাহ স্বস্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৫ বার
চট্টগ্রাম বন্দরে এলো জ্বালানি পণ্যবাহী ৪ জাহাজ

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ভিড়েছে চারটি বড় জ্বালানিবাহী জাহাজ। বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং শিল্প খাতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি ও গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা এসব জাহাজের আগমনকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মূল্য অস্থিরতার মধ্যেও এই সরবরাহ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, ভারত, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও চীন থেকে আগত চারটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে নোঙর করেছে এবং সেগুলো থেকে জ্বালানি পণ্য খালাসের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সময়মতো খালাস সম্পন্ন হলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নাইজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে আসা ‘কুল ভয়েজার’ নামের জাহাজটি গত ৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ-তে অবস্থান করছে। এখান থেকে এলএনজি খালাস করে তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এই চালানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘শান গ্যাং ফা শিয়ান’ জাহাজটি ৩ এপ্রিল বন্দরে এসে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে ডিওজে জেটিতে অবস্থান করছে। এই জাহাজ থেকে খালাসকৃত জ্বালানি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ঘনিয়ে আসায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে, ফলে গ্যাস অয়েলের এই সরবরাহ সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ জাহাজটি গত ৩১ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থান করছে এবং ধাপে ধাপে পণ্য খালাস করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘গ্যাস জার্নি’ নামের আরেকটি জাহাজ ৫ এপ্রিল বন্দরে নোঙর করেছে। এই জাহাজটি বর্তমানে ‘সেরলি’ এলাকায় অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এর কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এলপিজির এই সরবরাহ দেশের গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, জ্বালানি পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাস নিশ্চিত করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অনেক দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশেষভাবে চাপের মুখে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করা এবং তা দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশের জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস অয়েলের এই সম্মিলিত সরবরাহ শুধু তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণেই সহায়তা করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারেও ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ খাতের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান দিয়ে আমদানি-রপ্তানির একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। তাই এই বন্দরে জ্বালানি পণ্যের নির্বিঘ্ন আগমন ও খালাস দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই খবরে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ সংকট এবং জ্বালানি ঘাটতির কারণে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা পূরণে এই সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন দেশের জ্বালানি খাতে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি নির্দেশ করছে। দ্রুত খালাস ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই জ্বালানি দেশের বিভিন্ন খাতে পৌঁছে দেওয়া গেলে তা অর্থনীতি ও জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এমন উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত