প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রায় চল্লিশ দিন ধরে চলা উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান কোনোভাবেই মাথা নত করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুতে ইরানকে দুর্বল হিসাব করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি উল্টো প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাম্প শেষমেশ ইরানের ১০ দফায় সম্মতি দিয়ে পিছু হটেছেন। প্রথমে ইরানিদের কঠোর হুমকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে, মার্কিন নৌবহর নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের পূর্বের দাবি যে ইরানের ৮০ শতাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, তা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। একের পর এক বিমান হামলার পরও ইরানের সিস্টেম অটুট থেকে গেছে। ইরাক, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং সরকার পতনের ঘটনা ইরানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তচরবৃত্তি সত্ত্বেও ইরানের কমান্ড ব্যবস্থা অটুট আছে।
দেশের ভেতরে জনসাধারণের দ্বন্দ্ব থাকলেও বাইরের হুমকির বিরুদ্ধে জাতীয় ক্রোধ আরও শক্তিশালী। নতুন প্রজন্মের ইরানি যোদ্ধারা প্রতিরোধের এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করছে। যুদ্ধের প্রভাব শুধু ইরানে সীমাবদ্ধ থাকেনি; সিরিয়া, জর্ডান ও অন্যান্য অঞ্চলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সিরিয়ান ও ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে স্লোগান দিয়েছে, যা ইরানের সমর্থন প্রতিফলিত করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এক ধরণের নতুন শক্তি। তেল ও গ্যাস সরবরাহে এই নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে, ইউরোপে ডিজেলের দাম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা ও শক্তি প্রদর্শনের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করছে। পাকিস্তান, মিশর ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপেও ইরান এই নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না।
ইরান এবং আরব দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের সমাধানে শান্তি প্রস্তাব ব্যর্থ হলেও ইরানের কৌশলগত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহু ইরান আক্রমণের স্বপ্ন দেখলেও এটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান পুরো অঞ্চলে শক্তিশালী ও সমন্বিত এক চালক হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, ইরান রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই উপেক্ষিত নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে এ দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।