সর্বশেষ :
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাঠগড়ায় ইউপি সদস্য আইনগত বাধা কাটল: এমপি হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন সরোয়ার হবিগঞ্জে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৩ জন মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বিকলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ভারতের মুদ্রায় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চায় রাশিয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ চায় জামায়াত ড. ইউনূসের পরিকল্পনায় ছিল বিএনপিকে মাইনাস করা: রাশেদ খাঁন সারজিস-পাটওয়ারীর ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বুধবার রাজপথে নামছে এনসিপি

হরমুজ প্রণালীতে কোনো টোল মানবে না ওমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১ বার
হরমুজ পারাপারে কোনো টোল আরোপ করা যাবে না: ওমান

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক মন্ত্রণালয়গুলোতে এবং গ্লোবাল নৌ-রাজনীতিতে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরান তাদের দশ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে এমন একটি শর্ত যুক্ত করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ইরান ও ওমান উভয়ই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি নিতে পারবে। তবে ওমান সরকার এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য কোনো ধরনের টোল আরোপ করা যাবে না।

ওমানের পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটি এমন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজের ওপর কোনো ফি আরোপ করা হবে না। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি ওমান সরকারের অঙ্গীকার। আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই প্রণালী, যা ইরান ও ওমানের মাঝখানে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান জানিয়েছে, দেশের পুনর্গঠন এবং চলমান সংঘাতের কারণে প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই নৌপথ থেকে অর্থ আদায় করতে চাচ্ছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদির বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান ও ওমান একটি প্রোটোকল বা নীতিমালা তৈরির কাজ করছে, যাতে জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী পার হতে অনুমতি এবং লাইসেন্স নিতে হবে। তবে তিনি জোর দিয়েছেন, এই পদক্ষেপ কোনওভাবে চলাচল সীমিত করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সহজ করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংকীর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ। এখানে যে কোনো ফি বা টোল আরোপের চেষ্টা, যদিও ইরানের প্রস্তাবে সামান্য উল্লেখ আছে, তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং নৌপরিবহন নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরান প্রণালীর কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল, যা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছিল।

প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। এর আগে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয় অন্যতম। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ওমানে কর্মকর্তারা জানান, তারা ইতোমধ্যেই ইরানের সঙ্গে মসৃণ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক মডেল অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীকে অবশ্যই একটি স্বাধীন এবং নিরাপদ নৌপথ হিসেবে রাখা হবে, যেখানে কোনো ফি আরোপ করা হবে না, এই নীতি ওমানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে ওমানের অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ-ব্যবসা ও তেলের বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ করলে তা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রভাবই ফেলবে না, বরং রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াবে। তাই নিরাপদ ও অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে ওমান সরকার আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং শান্তি চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে জোর দিয়েছে।

এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে কোনো নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা বা টোল আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে নিশ্চিত করছে যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথটি খোলা এবং নিরাপদ থাকবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত