সর্বশেষ :
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বিকলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ভারতের মুদ্রায় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চায় রাশিয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ চায় জামায়াত ড. ইউনূসের পরিকল্পনায় ছিল বিএনপিকে মাইনাস করা: রাশেদ খাঁন সারজিস-পাটওয়ারীর ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বুধবার রাজপথে নামছে এনসিপি আগস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফখরুলকে নিয়ে গুঞ্জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধরের শিকার দুই ছাত্র কারাগারে স্বামীর হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ সরকারি চাকরিতে নারী কোটা পুনর্বহালের জোরালো দাবি

সারজিস-পাটওয়ারীর ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার
সারজিস-পাটওয়ারীর ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

প্রকাশ: ২৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে সহনশীলতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ক্রমশ বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র প্রতিবাদ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তরের জনপদ রংপুরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র রংপুর মহানগরের প্রাণকেন্দ্র প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জেলা ও মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির যৌথ উদ্যোগে একটি তীব্র ক্ষোভপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এনসিপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ ছাত্র-জনতার স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠা এই মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের অগ্রভাগে থাকা নেতাকর্মীদের মুখে হবিগঞ্জে সংঘটিত হামলার বিচার এবং সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান ধ্বনিত হতে থাকে। পরে মিছিলটি পুনরায় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে একটি সংক্ষিপ্ত ও তেজস্বী সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যেখানে ক্ষুব্ধ নেতারা হবিগঞ্জের পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ওই সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তাদের ক্ষোভ ও দাবিগুলো তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর শাখার সদস্যসচিব আব্দুল মালেক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আলমগীর নয়ন এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতিসহ আরও অনেকে। বক্তারা হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি চলাকালে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর যে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, তার জন্য সরাসরি ছাত্রদল ও যুবদলের সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন। তারা অবিলম্বে এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান।

সমাবেশের একপর্যায়ে এনসিপির স্থানীয় নেতারা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন যে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি মূলত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত শক্তির মাধ্যমেই এই অবস্থানে আসীন হতে পেরেছেন। অথচ আজ সেই ছাত্র-জনতার প্রধান রূপকার ও মহানায়করা যখন দেশজুড়ে হামলার শিকার হচ্ছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকেও তিনি তা রোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তখন তাঁর পদে থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না। অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করে বক্তারা বলেন যে, প্রশাসনের এই চরম ব্যর্থতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় এনসিপির নেতারা আরও জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষ করে স্বদেশে ফিরে সরকার গঠন করার পেছনে দেশের ছাত্র সমাজের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব যেমন সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনসহ অগণিত ছাত্র-জনতার বিশাল আত্মত্যাগ ও ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। যাঁদের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল এবং দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আজ সেই নেতারাই যদি সরকারি দলের বা অঙ্গসংগঠনের ক্যাডারদের দ্বারা আক্রান্ত হন, তবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। এই ধরনের কাপুরুষোচিত আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এর বিরুদ্ধে সারা দেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

রংপুরের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে নেতারা আরও বলেন যে, হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দেশের মানুষ একটি স্বাধীন ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশের স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির অবক্ষয় সেই আকাঙ্ক্ষাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। এনসিপির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের এই শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলন কোনো বাধা দিয়েই থামানো যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত হবিগঞ্জের হামলার বিচার নিশ্চিত না হচ্ছে এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি সুনিশ্চিত করা না হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই কর্মসূচি ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

এদিকে হবিগঞ্জের মূল ঘটনা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদের এই আগুন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে নতুন এক উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর এই ক্রমবর্ধমান দূরত্ব এবং মাঠপর্যায়ে সংঘাতের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতার অভাব দেশের সাধারণ মানুষের মনে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। রংপুরের এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার প্রভাব আগামী দিনের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জের অনভিপ্রেত হামলা এবং তার প্রতিবাদে রংপুরের রাজপথে ছাত্র-জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ প্রমাণ করে যে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখনো সংঘাত ও অসহিষ্ণুতার কালো ছায়া দূর হয়নি। একটি নতুন, বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যারা রাজপথে লড়াই করেছিলেন, তাদের ওপর এই ধরনের আক্রমণ কেবল একটি দলের ওপর আঘাত নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের সুস্থ রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর এক মারাত্মক আঘাত। যত দ্রুত সম্ভব সরকার ও প্রশাসনকে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় এই অসন্তোষ আরও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত