সর্বশেষ :

আগস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফখরুলকে নিয়ে গুঞ্জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার
আগস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফখরুলকে নিয়ে গুঞ্জন

প্রকাশ: ২৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নানামুখী আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সরকার–সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এর জন্য জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির নীতিনির্ধারক ও বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি জল্পনা-কল্পনা চলছে।

গত ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের পরবর্তী নিয়মিত অধিবেশনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য আলাদাভাবে কোনো বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই, কারণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির পক্ষ থেকে যাঁকে মনোনীত করা হবে, তাঁরই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

শাসক দল বিএনপির অন্দরমহল ও নীতিনির্ধারণী সূত্রে প্রকাশ, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলীয় ও বহির্ভূত একাধিক নাম অতীতে আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে আসছে। রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তাঁকেই ঘিরে সমস্ত জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আসত বাকি রয়েছে। গত শনিবার বগুড়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি দলীয় বৃত্তের বাইরে থেকে কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই গৃহীত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তাঁকে এই পদটির জন্য অন্যতম শীর্ষ সম্ভাব্য প্রার্থীর আসনে বসিয়েছে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা এই প্রবীণ নেতা দেশের অত্যন্ত সংকটময় ও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, আপসহীন নেতৃত্ব এবং দলীয় সীমানার বাইরেও রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজে থাকা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন।

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন করা হলে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাস আনতে হবে। তাঁকে যদি রাষ্ট্রপতির উচ্চ দায়িত্বে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে তাঁকে একই সঙ্গে তাঁর বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে যে সফলতার সঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন, সেখানেও নতুন নেতৃত্ব বা পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর বর্তমান ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটিও শূন্য হয়ে যাবে, যার ফলে ওই আসনে পুনরায় উপনির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। সরকারের বর্তমান মেয়াদের শুরুতেই দলীয় ও মন্ত্রিপরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো আনা হবে কি না, তা নিয়েও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

এদিকে সাংবিধানিক এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি জোরালো করেছে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন যে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। আইনসম্মতভাবে সংসদ সচিবালয় থেকে সমস্ত সংসদ সদস্যের হালনাগাদ ভোটার তালিকা হাতে পাওয়ার পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, যদি একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে জাতীয় সংসদ ভবনে সরাসরি প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে যদি শেষ পর্যন্ত একজনমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আগস্ট মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন বেশ উষ্ণ ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত এবং দলের স্থায়ী কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর বসবে। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও সংসদের সংখ্যাগেরিষ্ঠতার সুবাদে বিএনপির যাঁকেই চূড়ান্ত পছন্দ হিসেবে বেছে নেবে, তিনিই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে প্রবেশ করবেন। তবে দলের অন্দরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক এই নাটকীয়তার কি অবসান ঘটে এবং রাষ্ট্রপতির আসনে কার নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়, তা দেখার জন্য দেশবাসীর আগ্রহ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত