প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দলে কি থাকবেন নেইমার? দীর্ঘদিনের ইনজুরি, অনিয়মিত পারফরম্যান্স এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের উত্থানের মাঝে দাঁড়িয়ে নেইমারের সামনে এখন এক কঠিন বাস্তবতা। নিজের জায়গা ধরে রাখতে হলে তাকে পার করতে হবে কঠিন এক ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পরীক্ষার পথ।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নেইমারের বর্তমান ক্লাব সান্তোস এফসি একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ক্লাবটির প্রধান কোচ কুকা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে টানা ১৩টি ম্যাচ খেলানো হবে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো তাকে পুরোপুরি ম্যাচ ফিট করে তোলা, যাতে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পুরোনো ছন্দ ফিরে পান।
চোট কাটিয়ে ফিরে আসার পর ২০২৬ সালের শুরুতে নেইমারের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক। সান্তোসের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ছয়টি গোলে সরাসরি অবদান রেখে তিনি প্রমাণ দিয়েছেন, তার প্রতিভা এখনো নিভে যায়নি। মাঠে তার উপস্থিতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগে সৃজনশীলতা দলকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা আবারও তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হাঁটুর সমস্যার কারণে ফ্লামেঙ্গো-র বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। যদিও কোচ কুকা এই বিষয়টিকে উদ্বেগের কিছু মনে করছেন না। তার মতে, এটি পরিকল্পিত চিকিৎসার অংশ ছিল। নেইমারের হাঁটুতে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা বা পিআরপি থেরাপি দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ইনজুরি ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
কুকা আরও জানিয়েছেন, নেইমারের শক্তি, গতি এবং সহনশীলতা বাড়াতে বিশেষভাবে কাজ করা হচ্ছে। কারণ সামনে তাকে টানা ম্যাচ খেলতে হবে, যা তার শারীরিক সক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। এই প্রক্রিয়াটি শুধু ক্লাবের জন্য নয়, বরং ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নেইমারের ফিটনেস সরাসরি জাতীয় দলের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত।
তবে সব পরিকল্পনার পরও জাতীয় দলে তার জায়গা এখনো নিশ্চিত নয়। ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিট না হলে নেইমারকে দলে নেওয়া হবে না। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, জাতীয় দলের নির্বাচনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং পারফরম্যান্সই হবে একমাত্র মানদণ্ড।
বর্তমান ব্রাজিল দলে আক্রমণভাগে রয়েছে একঝাঁক তরুণ ও ফর্মে থাকা খেলোয়াড়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি এবং এন্দ্রিক—এই চারজনই বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ফলে নেইমারের জন্য দলে জায়গা করে নেওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালে গুরুতর চোটে পড়ার পর থেকে নেইমারের ক্যারিয়ার কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। জাতীয় দলে নিয়মিত খেলতে না পারা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সময় তাকে ছিটকে দেয় মূল ধারার ফুটবল থেকে। সেই জায়গা থেকে ফিরে এসে আবার নিজেকে প্রমাণ করা কোনো সহজ কাজ নয়।
তবে নেইমারের ক্যারিয়ার সবসময়ই চ্যালেঞ্জে ভরা ছিল। বার্সেলোনা থেকে পিএসজি হয়ে আবার ব্রাজিলে ফিরে আসা—প্রতিটি ধাপেই তিনি নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো, আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামা।
বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের জন্য এই মুহূর্তটি ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। যদি তিনি টানা ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন এবং ইনজুরি মুক্ত থাকতে পারেন, তাহলে জাতীয় দলে তার জায়গা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। অন্যথায়, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ভিড়ে তার জায়গা হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নেইমারের সামনে এখন এক কঠিন পরীক্ষা। এটি শুধু তার ফিটনেস বা পারফরম্যান্সের পরীক্ষা নয়, বরং তার মানসিক দৃঢ়তা ও প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়েরও পরীক্ষা। ব্রাজিল সমর্থকরা অপেক্ষায় আছেন—নেইমার কি আবারও নিজের জাদু দেখাতে পারবেন, নাকি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই, যখন তিনি মাঠে নামবেন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।