চান্দিনার বাজারে আগুন, ৮ দোকান পুড়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪ বার
চান্দিনার বাজারে আগুন, ৮ দোকান পুড়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ী

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর দক্ষিণ বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করায় ব্যবসায়ীদের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের একটি কাঠের দোকান থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। গভীর রাতে দোকানের ভেতর আগুন জ্বলতে দেখে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণ কাঠ, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

আগুনের লেলিহান শিখা এত দ্রুত বিস্তার লাভ করে যে ব্যবসায়ীরা দোকানের ভেতরে থাকা কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তাহেরের তিনটি দোকান, আতিকের দুটি দোকান এবং ইউনুছের একটি কাঠের দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। দোকানে থাকা কাঠ, তৈরি আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই ব্যাংক ঋণ কিংবা ধারদেনা করে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। আগুনে সবকিছু হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে কিছু করার মতো কোনো সুযোগ ছিল না। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে সবকিছু পুড়ে যেতে দেখেছেন তারা। অনেকের চোখে ছিল হতাশা, আবার কেউ কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর জেলার কচুয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রাণপণ চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে দোকানগুলোর অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চান্দিনা ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। তারা মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অন্তত কিছু দোকান রক্ষা করা সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা অমিত হাসান জানান, ঘটনাস্থলটি তাদের স্টেশন থেকে অনেক দূরে অবস্থিত হওয়ায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মাধাইয়া-রহিমানগর সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচলে সমস্যা হয় এবং সময় বেশি লেগেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাশের কচুয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে অবহিত করা হয় এবং তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তিনি আরও জানান, আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত সহায়তা না পেলে অনেক পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়বে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বাজার এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানুষের মানসিক অবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। যেসব ব্যবসায়ী বহু বছর ধরে কষ্ট করে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন, তাদের জন্য এই ক্ষতি পূরণ করা সহজ নয়। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত সহায়তা এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে, বাজারসহ জনবহুল এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত