প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চোটজনিত অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আইপিএলে ফেরার ছাড়পত্র পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। পিঠের পুরোনো স্ট্রেস ইনজুরি থেকে সম্পূর্ণ সেরে ওঠায় তিনি এখন কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই বোলিং করতে পারবেন বলে নিশ্চিত হয়েছে মেডিকেল রিপোর্টে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ শিবিরে।
বিভিন্ন ক্রীড়া সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সিডনিতে করা সর্বশেষ স্ক্যানে দেখা যায়, কামিন্সের পিঠের চোট সম্পূর্ণভাবে সেরে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার এখন পূর্ণ ফিটনেসে ফিরে এসেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে চলমান আইপিএলের শেষ পর্বে তাকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কামিন্স এখন থেকে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বল করতে পারবেন। আগামী শুক্রবার তিনি ভারতে ফিরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। তার প্রত্যাবর্তনে দলের বোলিং আক্রমণ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন কোচিং স্টাফরা।
গত বছরের শেষ দিকে অ্যাশেজ সিরিজে চোট পাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন কামিন্স। সেই সময় থেকেই তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগিয়েছে। এই চোটের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারেননি। তবে আইপিএলের শেষভাগে ফিরে আসার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আইপিএলের শুরুতেই কামিন্স দলের সঙ্গে যোগ দিলেও প্রথম দিকেই আবার মেডিকেল পরীক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান তিনি। এরপর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অনুমোদন ও এনওসি পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ায় এখন তার মাঠে ফেরার পথ পুরোপুরি খুলে গেছে।
তার অনুপস্থিতিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্ব সামলাচ্ছিলেন ঈশান কিশান। দলটি এই মৌসুমে মিশ্র পারফরম্যান্স দেখালেও এখন পর্যন্ত দুই জয় ও তিন পরাজয় নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান করছে। কামিন্সের প্রত্যাবর্তন দলটির বোলিং ইউনিটে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হায়দরাবাদের জন্য আসন্ন ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী শনিবার তারা ঘরের মাঠে শক্তিশালী চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে। এরপর ২১ এপ্রিল তাদের প্রতিপক্ষ দিল্লি ক্যাপিটালস। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচগুলোর আগে কামিন্সের ফিট হয়ে ফেরা দলকে কৌশলগত সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কামিন্স শুধু একজন বোলার নন, বরং দলের একজন নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ক্রিকেটার। তার উপস্থিতি মাঠে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখে। ফলে তার প্রত্যাবর্তন হায়দরাবাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা কামিন্সের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ ইনজুরি বিরতির পর ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়া সহজ নয়। তাই প্রথম কয়েকটি ম্যাচে তার পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক লিগে ফিরে আসা খেলোয়াড়দের জন্য শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের প্রস্তুতিই গুরুত্বপূর্ণ। কামিন্স যদি দ্রুত ছন্দে ফিরতে পারেন, তবে তিনি পুরো টুর্নামেন্টে বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবেন।
সব মিলিয়ে, প্যাট কামিন্সের প্রত্যাবর্তন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। দলের বোলিং আক্রমণকে নতুন মাত্রা দিতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইপিএলের শেষ পর্বে তার পারফরম্যান্স এখন নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।