প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক একটি খবর এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে। দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে বর্তমানে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকার অঙ্কে এই পরিমাণ প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং কিছু অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতির কারণে রিজার্ভে এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর আগে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা পরবর্তীতে বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার কিছু অর্থও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মূলত বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে রিজার্ভ একটি নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশই মুদ্রার চাপ ও বৈদেশিক লেনদেনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের রিজার্ভ স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসা অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রপ্তানি আয় বাড়ানো, প্রবাসী আয় প্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং বৈদেশিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সতর্ক করে বলছেন, শুধু রিজার্ভ বৃদ্ধি নয়, এর টেকসই ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে রিজার্ভ আবারও চাপের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানি খাতও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল থাকবে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলার বাজারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এই স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধির এই তথ্য অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার শক্ত অবস্থানই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আস্থাও কিছুটা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।