ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১৮, উত্তেজনা চরমে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ বার
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১৮, উত্তেজনা চরমে

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেনে রাতভর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত আঘাতে দেশটির বিভিন্ন শহর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ, বন্দরনগরী ওডেসা এবং শিল্পাঞ্চল দিনিপ্রোসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর। রাতের অন্ধকারে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এসব এলাকা। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়া প্রায় ৭০০-র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ ড্রোন এবং ৪৪টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও অন্তত ২৬টি স্থানে সরাসরি আঘাত হানে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে বিভিন্ন অঞ্চলে।

রাজধানী কিয়েভে রাতের বেলায় সাইরেন বেজে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বিস্ফোরণ। একটি বহুতল আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাত হানে একটি ড্রোন, যার ফলে ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, যা পুরো দেশকে শোকাহত করেছে।

হামলার পর কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং জরুরি সেবায় ব্যাঘাত ঘটে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা উচিত, শিথিল নয়।

জেলেনস্কি আরও বলেন, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ঘাটতি বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলেও বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে যেসব কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তা এখন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে ইতোমধ্যে ইউরোপ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই যুদ্ধের কারণে বারবার অস্থির হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধের সমাপ্তি এখনো অনেক দূরে। দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এবং সামরিক উত্তেজনা শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই সংঘাতে। শহরগুলোতে বারবার হামলা, অবকাঠামো ধ্বংস এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বাস্তবতা বলছে, মাঠপর্যায়ের সংঘাত এখনো ভয়াবহভাবে সক্রিয়।

সব মিলিয়ে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক এই হামলা শুধু সামরিক নয়, মানবিক দিক থেকেও গভীর সংকট তৈরি করেছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত