ইতালির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার
বাংলাদেশ ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইতালি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে নিরাপদ অভিবাসন, শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারা নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই কারণে ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ এ বিষয়ে ইতালির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালি বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গভীর করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ইতালি সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিবাসন ইস্যু দেশটির জাতীয় নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ইতালিতে আগামী জুন মাস থেকে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই নীতির মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুসংগঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও দ্রুততর ও কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দক্ষ কর্মী পাঠানো, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এই গ্রুপের সভা দুই দেশের সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আগামী সভা ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ইতালির ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন এবং তাকে ইতালি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বছরের সুবিধাজনক সময়ে ইতালি সফর করবেন বলে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

দুই দেশের বৈঠকে শুধু অভিবাসন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ও শ্রমবাজারকেন্দ্রিক হলেও বর্তমানে এটি আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

অন্যদিকে, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইতালির যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও মানবিক করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

সব মিলিয়ে এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত