যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩০ বার
তেলের দাম যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। বরং উল্টো চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববাজারে, যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ঘোষণায় সাময়িক স্বস্তির আশা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে একই ঘোষণায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বন্দর এলাকায় অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যতটা না শান্তির বার্তা দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বাস্তব নীতিগত অবস্থান। কারণ বন্দর অবরোধ বহাল থাকায় তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুরুতে কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও দিনের দ্বিতীয় ভাগে তা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দিনের শুরুতে ৯৫ ডলারের নিচে থাকলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

দিনশেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধি কেবল সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি তেলের বাজারকে প্রভাবিত করে। কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ এই অঞ্চল থেকে সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে রাজনৈতিক ঘোষণা বা সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারছে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও একই সময়ে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই দিনে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক প্রায় ২৯৩ পয়েন্ট পতন রেকর্ড করে।

প্রযুক্তি খাতভিত্তিক নাসডাক কম্পোজিট সূচকেও একই ধরনের পতন দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতের শেয়ারে চাপ তৈরি হয়েছে।

আর্থিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর প্রভাব সরাসরি পরিবহন, উৎপাদন ও ভোক্তা খরচে পড়ে। ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ বাড়ছে এবং পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির এই টানাপোড়েনের মধ্যে তেলের বাজারকে এখন সবচেয়ে সংবেদনশীল খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তনও দামকে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক উত্তেজনার মতো বিষয়গুলো বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে। এতে শুধু তেলের দামই নয়, বরং গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন। অনেকেই মনে করছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে তেলের দাম আরও ওঠানামার মধ্যে থাকবে এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হবে।

বিশ্ব অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি খরচ বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের দামে পড়ে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও আন্তর্জাতিক তেল বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত