ট্রাম্পের ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে ইরান বিভ্রান্ত হয়েছে: রাশিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে তীব্র মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসে ইরান বিভ্রান্ত হয়েছে এবং এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব কোনো ভিত্তি ছিল না।

ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইরানকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। তার মতে, এই ধরনের কৌশলগত অবস্থান ইরানকে বারবার আলোচনার টেবিলে নিয়ে এলেও কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানকে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, বরং বিভিন্ন সময় চাপ ও হুমকির মধ্যেও রাখা হয়েছে। এতে করে দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ল্যাভরভের ভাষায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ায় বারবার বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে আস্থার ঘাটতি আরও গভীর হয়েছে।

তিনি মনে করেন, ইরানের বর্তমান অবস্থান একেবারে অযৌক্তিক নয়, কারণ অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বারবার একই ধরনের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির মুখোমুখি হয়েছে, যা পরে বাস্তবায়িত হয়নি। এই কারণে ইরানের কূটনৈতিক আচরণকে তিনি একটি অভিজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পাকিস্তানে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি রাশিয়া ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল, যেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তার মতে, এই ধরনের সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনায় স্থায়ী সমাধান পেতে হলে বাস্তবভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি অপরিহার্য। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য বা কৌশলগত প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়।

ল্যাভরভ আরও বলেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো কোনো নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের সমঝোতা কতটা সম্ভব তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই বক্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে তাদের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস ও উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। পারমাণবিক চুক্তি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু এই সম্পর্ককে বারবার জটিল করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ইস্যু এবং আঞ্চলিক সংঘাত এই সংকটকে আরও গভীর করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ল্যাভরভের মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতার ইঙ্গিত স্পষ্ট নয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আস্থা পুনর্গঠনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের অভিজ্ঞতা, নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক অনাস্থা দুই দেশের সম্পর্ককে এক জটিল অবস্থায় নিয়ে গেছে।

রাশিয়ার অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা চায়, তবে একই সঙ্গে পশ্চিমা কূটনৈতিক প্রভাবের সমালোচনাও অব্যাহত রাখছে। এই দ্বৈত অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে, এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত