প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার বহুল প্রতীক্ষিত সময়সূচি অবশেষে প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে, যার মাধ্যমে লাখো শিক্ষার্থীর সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এই পরীক্ষার সময়রেখা। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে এবং তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দীন হায়দারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লিখিত পরীক্ষা শেষে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতির আমেজ দেখা যাচ্ছে।
প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে এবং প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময়ের ভিত্তিতে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো বিরতি থাকবে না, অর্থাৎ বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল উভয় অংশ একটানা অনুষ্ঠিত হবে। এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনায় আরও সচেতন হতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার সময় বণ্টনেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১০০ নম্বরের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বহুনির্বাচনী অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবহারিক যুক্ত বিষয়গুলোতে বহুনির্বাচনী অংশের জন্য ২৫ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই সময় বিভাজন শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ধরনেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাড়ে ৯টায় পরীক্ষার্থীদের হাতে উত্তরপত্র দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। একইভাবে দুপুর ২টার পরীক্ষার জন্য ১টা ৩০ মিনিটে উত্তরপত্র বিতরণ করা হবে। সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে এই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
এবারের পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। অর্থাৎ তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী এবং ব্যবহারিক অংশে আলাদাভাবে উত্তীর্ণ না হলে পরীক্ষার্থীকে অকৃতকার্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই নিয়ম শিক্ষার্থীদের প্রতিটি অংশে সমান গুরুত্ব দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে এবং কাটাযুক্ত হাতঘড়ি সঙ্গে রাখতে পারবে। তবে প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর এবং মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেবল কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
এছাড়া উত্তরপত্রের ওএমআর ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে পরীক্ষার্থীর ফলাফল বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, সিলেট, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহসহ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও এই পরীক্ষায় অংশ নেবে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন তাদের প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করতে পারবে। একই সঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ কাজ করছে, তেমনি রয়েছে নতুন উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফলাফল এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই সবাই এখন মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতিতে সময় দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন শিক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা।