সূচক উত্থানে ডিএসইতে মূলধন বাড়ল ১৯১৯ কোটি টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
সূচক উত্থানে ডিএসইতে মূলধন বাড়ল ১৯১৯ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পুঁজিবাজারে চলতি সপ্তাহে ইতিবাচক প্রবণতার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। সূচকের ধারাবাহিক উত্থান এবং লেনদেন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুদ্ধারের আভাস মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক বাজারে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

সাপ্তাহিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকায়। এর আগের সপ্তাহে এই পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। যদিও এই প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবুও ধারাবাহিক পতনের পর বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে একে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

চলতি সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচকগুলোর সবকটিতেই উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪১ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ। একই সঙ্গে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ। অপরদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ২১ পয়েন্টে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

শুধু সূচক নয়, লেনদেনের ক্ষেত্রেও এই সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য গতি লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৫১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে এই পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৭৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ২৪১ কোটি টাকার বেশি। এই প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিদিনের গড় লেনদেনের চিত্রেও উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। চলতি সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৯০২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে এই পরিমাণ ছিল ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সক্রিয়তা বৃদ্ধিই এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৬৮টির কমেছে এবং ২৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও সব খাতে সমানভাবে তার প্রভাব পড়েনি। কিছু খাতে এখনও চাপ বিদ্যমান রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতার বার্তা বহন করে।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও সূচকের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা পতন হয়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৩১ দশমিক ৭২ পয়েন্টে। একইভাবে সিএসসিএক্স সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা এখন ৯ হাজার ৯২ দশমিক ৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং সিএসই-৫০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে সিএসআই সূচক সামান্য কমেছে শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ, যা বাজারের একটি অংশে এখনও চাপ থাকার ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেনের ক্ষেত্রে সিএসইতে এই সপ্তাহে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মোট লেনদেন হয়েছে ১৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৯৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, বড় বিনিয়োগকারীদের কিছুটা সতর্ক অবস্থান এবং নির্দিষ্ট কিছু খাতে সীমিত লেনদেনের কারণেই এই পতন ঘটেছে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩১০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৮টির দাম বেড়েছে, ১৫১টির কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই চিত্রটি ডিএসইর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন, যা বাজারভেদে বিনিয়োগ প্রবণতার পার্থক্য নির্দেশ করে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে যে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে। বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা, সুদের হার সংক্রান্ত পরিবর্তন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নজরদারি বৃদ্ধির ফলে এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও জোরদার করতে হবে।

একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে স্বল্পমেয়াদি উত্থান স্থায়ী স্থিতিশীলতায় রূপ নেবে না।

সব মিলিয়ে, চলতি সপ্তাহে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের ইতিবাচক প্রবণতা বাজারের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে। তবে এই গতি ধরে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত