প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল পরিষেবা কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই কর প্রত্যাহার না করা হলে যুক্তরাজ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য যে ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপ করেছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি একটি অন্যায্য নীতি, যা বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
যুক্তরাজ্য ২০২০ সালে ডিজিটাল পরিষেবা কর চালু করে, যার আওতায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন আয়ের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। এই করের আওতায় রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো, যার মধ্যে অ্যাপল, অ্যালফাবেটের গুগল এবং মেটার মতো কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা তিনি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তার ভাষায়, এসব কোম্পানি শুধু আমেরিকার নয়, বরং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম, যারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি এই কর প্রত্যাহার না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করতে পারে। তার মতে, এটি একটি সহজ পদক্ষেপ হতে পারে, যা অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে এ ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে কর নীতিমালা নিয়ে মতপার্থক্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির অর্থনৈতিক নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল পরিষেবা কর যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা সহজ সিদ্ধান্ত হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর মূলত বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অনলাইন আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় অর্থনীতিতে তাদের ন্যায্য অবদান নিশ্চিত করা যায়। তবে এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার আপত্তি জানানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতও হতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কর কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
এর আগে বিভিন্ন সময়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ডিজিটাল কর নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থাকবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে এই নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল পরিষেবা করকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ও প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় বড় শক্তিগুলোর মধ্যে এমন মতবিরোধ বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। এখন নজর রয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা এই উত্তেজনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।