পাকিস্তানের খাইবারে অভিযান, ২২ তালেবান নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ২২ পাকিস্তানি তালেবান নিহত

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি যৌথ গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস জানায়, খাইবার জেলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ হয়, যার ফলে ২২ জন তালেবান সদস্য নিহত হয়।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সামরিক সূত্রের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা ওই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী সীমান্ত পার হয়ে আক্রমণ পরিচালনা করছে এবং এতে বহিরাগত শক্তিরও সমর্থন রয়েছে। তবে কাবুল ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।

খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বান্নু জেলায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়, যেখানে একজন আত্মঘাতী হামলাকারীসহ দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়। ধারাবাহিক এসব অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান সহিংসতা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সীমান্ত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা একত্রে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে অভিযান শেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে বলে তারা জানান।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান সন্ত্রাস দমনে সাময়িক সফলতা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগও প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা শুধু পাকিস্তান নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।

এদিকে পাকিস্তান সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর এই সফল অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় এই সাম্প্রতিক অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত