জ্বালানি ব্যয় বাড়লেও ভোক্তায় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে যখন জনমনে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন সেই উদ্বেগ দূর করতে আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় হলেও তার সরাসরি প্রভাব সাধারণ ভোক্তাপর্যায়ে পড়বে না। সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের কারণেই এই চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুক্রবার দুপুরে সিলেট-এর বাসিয়া খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সরকারের প্রস্তুতির বিষয়গুলো। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করলেও সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এমনভাবে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব থেকে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাত সচল রাখতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখতে হলে কখনো কখনো বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতেই হয়। তবে সেটি এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে যাতে বাজারে মূল্যস্ফীতির বড় কোনো প্রভাব না পড়ে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। এই তুলনামূলক সুবিধার কারণে সামান্য মূল্যবৃদ্ধি হলেও তা সাধারণ জনগণের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, সরকার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজনে ভর্তুকি বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রায়ই এই খাতে চাপ তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় সরকার শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে জ্বালানি সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা যায়।

তিনি জানান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার জন্য শিগগিরই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বাসিয়া খাল পরিদর্শন প্রসঙ্গেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খালটির পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, যা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জানা গেছে, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খননকাজের উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাদের উপস্থিতি এই প্রকল্পের গুরুত্ব এবং সরকারের অগ্রাধিকারকে স্পষ্ট করে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি একটি সংবেদনশীল বিষয়, যা সরাসরি শিল্প উৎপাদন, পরিবহন খরচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার যদি কার্যকর পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এই চাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমানো যায়।

সব মিলিয়ে, বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি আশাবাদী বার্তা রয়েছে—যে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে বাস্তবতা কতটা এই আশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নির্ভর করবে নীতির সঠিক বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর। তবুও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আশ্বাস সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত