প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ব ফুটবলের তারকা লিওনেল মেসিকে মাঠে দেখতে গিয়ে ভক্তদের গুনতে হয়েছে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য। যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে ইন্টার মায়ামি ও সল্ট লেক সিটির ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া ব্যাপক চাহিদা টিকিটের দামকে ইতিহাসের অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মেসির জনপ্রিয়তা ঘিরে এই পরিস্থিতিকে অনেকেই “মেসি উন্মাদনা” বলে অভিহিত করছেন।
টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এই ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় চারশ তিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক সাতচল্লিশ হাজার টাকার কাছাকাছি। সাধারণ সময়ে একই ভেন্যুতে ম্যাচ দেখতে যে খরচ হয়, তার তুলনায় এই দাম প্রায় চৌদ্দশ শতাংশ বেশি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, একই দলের পরবর্তী ম্যাচে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে মাত্র আঠাশ ডলারে। এই বিশাল ব্যবধানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে মেসির উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাহিদার মাত্রা। চাহিদার চাপ এতটাই বেশি ছিল যে স্টেডিয়ামের সব আসন দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কিছু অতিরিক্ত আসন যোগ করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত বড় ভেন্যুতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এই ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি। কারণ মেসির অংশগ্রহণ এবং মাঠের ঘাসের ধরন সংক্রান্ত কিছু শর্ত এতে বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে সীমিত আসনের মধ্যেই টিকিট চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির উপস্থিতি শুধু খেলার মানই বাড়ায় না, বরং পুরো ইভেন্টকে একটি বৈশ্বিক আকর্ষণে পরিণত করে। এই কারণেই তার ম্যাচ ঘিরে টিকিটের বাজারে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। অনেক দর্শক শুধু তাকে একবার কাছ থেকে দেখার জন্য যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকেন, যা বাজারের চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে।
উক্ত ম্যাচে যদিও মেসি নিজে গোল করতে পারেননি, তবে তার দল ইন্টার মায়ামি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে দুই গোল করে তারা প্রতিপক্ষ সল্ট লেক সিটিকে হারিয়ে দেয়। খেলার ৮২তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা একটি বলে জোরালো শটে গোল করেন রদ্রিগো ডি পল। এরপর ৮৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা লুইস সুয়ারেজ ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে গ্যালারির টিকিট মূল্য এবং মেসিকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা।
স্থানীয় দর্শকদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা সাধারণ ম্যাচের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে টিকিট কিনেছেন শুধুমাত্র মেসিকে মাঠে দেখার জন্য। কেউ কেউ দীর্ঘদিন আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই টিকিট কিনতে পারেননি।
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদদের মতে, মেসির মতো তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি কেবল খেলার মাঠেই প্রভাব ফেলে না, বরং পুরো ক্রীড়া অর্থনীতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। টিকিট বিক্রি, বিজ্ঞাপন, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে, কিছু সমালোচক মনে করছেন, এ ধরনের অতিরিক্ত টিকিট মূল্য সাধারণ দর্শকদের জন্য খেলা দেখা কঠিন করে তুলছে। তারা বলছেন, খেলাকে আরও সবার জন্য সহজলভ্য করা উচিত, যাতে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তিতে দর্শক নির্ধারিত না হয়।
সব মিলিয়ে লিওনেল মেসির উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে, তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। তার নামই যে কোনো ম্যাচকে বিশেষ করে তোলে, উক্ত ঘটনার মাধ্যমে সেটিই আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে মেসি অংশগ্রহণকারী ম্যাচগুলোতে টিকিট মূল্য আরও পরিবর্তনশীল হতে পারে এবং এই ধরনের “উন্মাদনা অর্থনীতি” ক্রীড়া জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে।