প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাঘাতে ইরানের স্বাস্থ্যখাতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে অস্থিরতা এবং আকাশপথে কার্গো পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় দেশটির চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ক্যানসারের ওষুধ, ব্যথানাশক এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় এই সংকট অব্যাহত থাকলে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তেহরানের ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেমোথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, শক্তিশালী ব্যথানাশক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধের সরবরাহ কমে গেছে। একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে সমস্যা এবং আমদানি জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চিকিৎসা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় ওষুধ সরবরাহে কিছুটা ব্যাঘাত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ একসঙ্গে সংকটে পড়ায় তা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
অনেক হাসপাতাল সূত্র বলছে, কিছু নির্দিষ্ট কেমোথেরাপি ওষুধের ঘাটতি ইতিমধ্যেই চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। পাশাপাশি স্যালাইন ও ওষুধের প্যাকেজিং সামগ্রী উৎপাদনেও বাধা তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অস্থিরতা শুধু জ্বালানি পরিবহন নয়, বরং পুরো আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। ইরানের মতো একটি দেশের জন্য যেখানে চিকিৎসা সরঞ্জামের বড় অংশই আমদানি নির্ভর, সেখানে এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাস্থ্যখাতকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ওষুধ সংকট পুরোপুরি দেখা দেয়নি এবং বিদ্যমান মজুদ দিয়ে কিছুটা চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মজুদ কতদিন টিকবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তব অগ্রগতি এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের কথা বললেও তা আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তির অংশ কি না, তা পরিষ্কার নয়।
ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি মানবিক খাতে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, যদি দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হয়, তাহলে জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হতে পারে এবং সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি গুরুতর রোগীরাও ঝুঁকিতে পড়বেন। বিশেষ করে ক্যানসার ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানের স্বাস্থ্যখাত এখন এক জটিল সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরিবহন ব্যাঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা একত্রে পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।