হরমুজে বন্ধুদেশের জাহাজে ফি নেবে না ইরান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার
হরমুজে বন্ধুদেশের জাহাজে ফি নেবে না ইরান

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জাহাজ থেকে এই প্রণালী ব্যবহার বাবদ কোনো ফি বা মাশুল নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু মিত্র দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বিশেষ ছাড় কার্যকর করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী এই নীতি পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিত্র দেশগুলোর জন্য এই সুবিধা কার্যকর করার বিষয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা দেশগুলো এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বক্তব্য এসেছে। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি বাবাইয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছিল, প্রণালী ব্যবহার করে চলাচলকারী জাহাজ থেকে প্রথম দফার টোল আদায়ের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

তবে এই অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বা কোন ধরনের জাহাজ থেকে আদায় করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বিভিন্ন ধরনের মাশুল আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে কত টাকা ফি নির্ধারণ করা হবে বা আদৌ নিয়মিতভাবে তা কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ঘোষণা ছিল না।

গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের নীতি পরিবর্তন বা উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য আলিরেজা সালিমি দাবি করেছেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে তিনি জানতে পেরেছেন যে, প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় করা হয়েছে। তার মতে, জাহাজের ধরন, বহন করা পণ্যের পরিমাণ এবং ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, যারা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে গিয়ে ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা ফি দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বন্ধুপ্রতিম দেশ ও অন্য দেশের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন নীতি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারা তাদের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত