প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনা জোরদার করতে বিশ্বখ্যাত জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাটা গ্রুপের শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাটা গ্রুপের গ্লোবাল সিইও পানোস মাইটারোস এবং বাটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারিয়া ইয়াসমিন।
সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশের শিল্প খাতের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় দেশের ফুটওয়্যার শিল্পের বিকাশ এবং এই খাতে বাটা গ্রুপের দীর্ঘদিনের ভূমিকা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতিতে বাটা গ্রুপের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বাটার কার্যক্রম শুধু একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং এটি দেশের শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি রপ্তানি সম্ভাবনা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাটা গ্রুপকে বাংলাদেশে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বাটা গ্রুপের গ্লোবাল সিইও পানোস মাইটারোস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং ফুটওয়্যার শিল্প এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, বাটা ভবিষ্যতে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প খাতে আরও অবদান রাখতে আগ্রহী।
বৈঠকে তিনি বাটা গ্রুপের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। পানোস মাইটারোস বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি শুধু বাজার সম্প্রসারণই নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চায়।
আলোচনায় বাটা গ্রুপের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমও উঠে আসে। বিশেষ করে ‘বাটা চিলড্রেনস প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা শুধু ব্যবসায়িক লক্ষ্য নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও কাজ করছে।
বৈঠকে বাটা বাংলাদেশের অর্থ পরিচালক ইলিয়াস আহমেদ এবং মানবসম্পদ পরিচালক মালিক মেহেদী কবিরও উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে বাটা গ্রুপের কার্যক্রম, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বাটা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি দেশের মানুষের জন্য উন্নতমানের, আরামদায়ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি তারা স্থানীয় শিল্পের বিকাশে আরও বেশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়।
বৈঠক শেষে বাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সময় ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নির্বাহী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে বাটা গ্রুপের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশের শিল্প কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
সব মিলিয়ে এই সাক্ষাৎকে দুই পক্ষই ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।