নগদের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণে নতুন উদ্যোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি পৌঁছে যাবে নগদে

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের শিক্ষাখাতে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ষষ্ঠ শ্রেণি, একাদশ শ্রেণি এবং আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা সরাসরি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অধীনে এই উপবৃত্তি কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় কমাতে এবং ঝরে পড়ার হার কমানোর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালে ভর্তিকৃত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, পাশাপাশি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের তথ্য নিবন্ধনের মাধ্যমে এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।

নিবন্ধন কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম https://hsp.pmeat.gov.bd/login ব্যবহার করতে হবে। সেখানে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। মেন্যু থেকে ‘প্রাথমিক নির্বাচন’ অপশন বেছে নিয়ে ‘নতুন শিক্ষার্থী এন্ট্রি’ ফরম পূরণ করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা এবং পারিবারিক আর্থসামাজিক তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। তথ্য যাচাই শেষে তা সংরক্ষণ করার মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। এই কার্যক্রম আগামী ৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

উপবৃত্তির টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ ব্যবহার করা হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পিতা বা মাতার মধ্যে যাকে অভিভাবক হিসেবে নির্বাচন করা হবে, তার জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সিম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং সেই তথ্য অনুযায়ী নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হবে। অ্যাকাউন্টটি অভিভাবকের নামেই নিবন্ধিত থাকবে, তবে তা শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হবে।

সরকারি এই উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সহজ উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ব্যাংকে না গিয়ে সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পাওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নগদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তির অর্থ সফলভাবে বিতরণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এবারও একইভাবে কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।

নগদের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলাম বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণে নগদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের এই উদ্যোগে নগদকে যুক্ত করা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য সুবিধাজনক হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, সহজ ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কম খরচে নগদের ক্যাশ আউট সুবিধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও এই সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ভাতা নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা উপবৃত্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বিতরণ হওয়ায় স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি সুবিধা পাবে এবং পুরো ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, নগদের মাধ্যমে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ, নিরাপদ ও আধুনিক আর্থিক সেবা ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত