ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের কড়া বার্তা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৬ বার

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে আবারো উত্তেজনার ঘনঘটা। ইসরাইলের সঙ্গে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ানো ইরান এবার প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছে—প্রয়োজনে সরাসরি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত তারা। ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সরাসরি সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরাইলের যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবেলায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না তা নিয়ে তেহরান মোটেও আশাবাদী নয়।

সাম্প্রতিক এই বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কারণ এটি গত জুনে সংঘর্ষ অবসানের পর ইরানি প্রেসিডেন্টের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। সেখানে পেজেশকিয়ান বলেন, ইসরাইলের আগ্রাসনের ফলে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে সেই আঘাতের যথার্থ জবাব দিয়েছে ইরানও। তার দাবি, ইরান ইসরাইলের ভূখণ্ডে গভীর আঘাত হেনেছে, তবে ইসরাইল তার ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে।

তিনি বলেন, ইসরাইলের যুদ্ধ পরিকল্পনা ছিল ইরানকে দুর্বল করে তোলা, রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে হেয় করা। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় তারা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা শুধু নিজেদের রক্ষা করছি না, বরং যেকোনো হামলার পাল্টা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত আছি। আমাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে আবারো ইসরাইলের ভেতরে প্রবলভাবে আঘাত হানার জন্য।”

পেজেশকিয়ান তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং এটি হবে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে তিনি জানান, “আমরাও বিশ্বাস করি, পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। তবে আমরা তা বলছি আমাদের নীতিগত, ধর্মীয় ও কৌশলগত অবস্থান থেকে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে হাঁটবে না।”

তবে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার থেকে সরে আসার প্রশ্নই ওঠে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তার মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ইরানের সার্বভৌম অধিকার, এবং পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ বা হুমকিতে সেই অধিকার থেকে সরে আসবে না তেহরান।

তিনি আরও বলেন, “আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনা হবে দুই পক্ষের সমান স্বার্থ বিবেচনায়। হুমকি, নিষেধাজ্ঞা কিংবা আদেশের ভিত্তিতে কোনো আলোচনায় ইরান অংশ নেবে না।”

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই বক্তব্য এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ইরানের নতুন নেতৃত্ব যে আগের মতোই রক্ষণাত্মক অবস্থান বজায় রাখবে না, বরং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক কৌশলও নিতে প্রস্তুত—এমন বার্তা এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে, ইরান আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চেও শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে চায়, তা-ও তাদের ভাষ্য থেকে অনুধাবন করা যাচ্ছে।

এ মুহূর্তে পশ্চিমা বিশ্ব ও জাতিসংঘের জন্য বড় প্রশ্ন হচ্ছে—ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার এই উত্তেজনা আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেবে কি না। সময়ই বলে দেবে, সাম্প্রতিক এই কড়া বার্তা আসলে যুদ্ধের নতুন ঘন্টা বাজিয়ে দিল কি না।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত