তাবলিগ জামাতের ৭০ সদস্যকে দায়মুক্তি দিল দিল্লি হাইকোর্ট: দীর্ঘ পাঁচ বছরের পর অবসান এক আইনি বিতর্কের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫ বার

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি আলোচিত ও বিতর্কিত মামলায় অবশেষে স্বস্তি পেলো ভারতের তাবলিগ জামাতের ৭০ জন সদস্য। দিল্লি হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক রায়ে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৬টি মামলা একযোগে খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় তাবলিগ জামাত বা তাদের সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কোনোটি প্রমাণিত হয়নি।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নীনা বানসল কৃষ্ণা এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য দিল্লির নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাত সম্মেলনকে দায়ী করা যায় না এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলো ছিল তথ্য ও প্রমাণের দিক থেকে দুর্বল। এই মামলাগুলো ভারতজুড়ে বিতর্ক এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল, বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে, যখন সারা ভারতজুড়ে কড়াকড়িভাবে লকডাউন কার্যকর ছিল, তখন দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদে তাবলিগ জামাতের একটি আন্তর্জাতিক জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এ সময় দিল্লি পুলিশ অভিযোগ তোলে যে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে এবং অনেক বিদেশিকে সেখানে অবৈধভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ৭০ জন তাবলিগ সদস্যের বিরুদ্ধে ১৬টি আলাদা এফআইআর দায়ের করে। আদালতের কাছে পুলিশের দাবি ছিল, তাবলিগ সদস্যরা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছেন এবং মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রয়াসকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি বলেন, “তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ মামলাগুলো শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য কিংবা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের কেউ সরাসরি সংক্রমণ ছড়িয়েছেন তার প্রমাণও নেই।”

এই রায়ের পর ইসলামি চিন্তাবিদ, মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা আদালতের সাহসী অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, আইন ও সংবিধানের শাসন ফেরানোর পথে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে এ রায় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের আইনব্যবস্থার আস্থা পুনঃস্থাপনেও সহায়ক হবে বলে মত অনেকের।

উল্লেখ্য, তাবলিগ জামাত একটি অরাজনৈতিক ইসলামি দাওয়াতি আন্দোলন, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস। ১৯২৬ সালে ভারতের মেওয়াত থেকে যাত্রা শুরু করা এ আন্দোলন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশে সক্রিয়। সংগঠনটি মূলত ব্যক্তি জীবনের ধর্মীয় শুদ্ধি ও ইসলামের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে লক্ষ্য করে।

দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ে পাঁচ বছর ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা বহু ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিল। অনেকেই আশা করছেন, এই রায়ের পর এখন অন্তত ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত