প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দেখা দিয়েছে দরপতন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে, যা টানা চতুর্থবারের মতো মূল্যহ্রাস হিসেবে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন নতুন করে দর সমন্বয় করে জানিয়েছে, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবেই এই পরিবর্তন এসেছে।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৬ টাকা। আগের দিনের তুলনায় প্রতি ভরিতে কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমার কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাবও দেশের স্বর্ণদামে সরাসরি পড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগের দিন, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিলও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। ধারাবাহিক এই দরপতন স্বর্ণবাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বারবার দাম পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা যেমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, তেমনি সাধারণ ক্রেতারাও ভবিষ্যৎ ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা তৈরি করছে।
দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়মিত দাম পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারা অনেক সময় অপেক্ষা করছেন, ফলে বিক্রিও কিছুটা প্রভাবিত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দাম কমার এই প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তন ভবিষ্যতে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিতও হতে পারে।
স্বর্ণকে শুধু অলংকার হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাই এর দামের ওঠানামা সরাসরি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণের দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণবাজার স্থিতিশীল করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করা জরুরি। না হলে ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াবে।
সব মিলিয়ে আবারও স্বর্ণের দাম কমায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির। ভবিষ্যতে দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।