গণভোট দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় কর্মসূচি ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
গণভোট দাবিতে জোট কর্মসূচি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে গণভোট আয়োজনের দাবি জোরদার করতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী মাসগুলোতে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে বলে জানিয়েছে জোটটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জোটের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।

তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন, দেশের বিদ্যমান সংকট সমাধান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে সামনে রেখে এই আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে। তার ভাষায়, দেশে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সামাজিক অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে তারা মনে করছে।

জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ বাড়ছে এবং নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণকে সীমিত করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। এসব পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতেই রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জনগণের একটি বড় অংশ ইতিবাচক মত দিলেও সরকার সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না। তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বদলে ক্ষমতাসীনরা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি আরও জানান, আসন্ন ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার কারণে কর্মসূচিতে কিছুটা বিরতি থাকবে। ঈদের পর থেকেই আন্দোলনের গতি আরও বাড়ানো হবে এবং ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে জনমত গঠন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু সমাবেশ নয়, সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির সঙ্গে মতবিনিময়ও চলবে। শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাদা আলোচনা সভার মাধ্যমে গণভোটের দাবির পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন করা হবে, যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকার বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাধারণ মানুষের একটি অংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি যতটা না সংঘাতমুখী হবে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত জনদুর্ভোগ কমানো এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজা। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে আসন্ন বিভাগীয় সমাবেশগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় জোট তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করতে চাইছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত