২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
হামে শিশু মৃত্যু বৃদ্ধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। ফলে গত দেড় মাসে হামে ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৬ জনে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজারের বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে চার হাজারেরও বেশি রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের এই উচ্চ হার এবং মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

দেশজুড়ে হামের এই বিস্তার রোধে সরকার ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৭০ লাখ শিশু হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা পেয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ মে’র মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে সম্পূর্ণভাবে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের বর্তমান পরিস্থিতি অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ এটি একটি দ্রুত সংক্রামক রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের টিকা গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়নি, তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কার্যক্রমে গতি আনা হয়েছে এবং দেশের প্রতিটি জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে কিছু এলাকায় জনসচেতনতার অভাব, গুজব এবং টিকা গ্রহণে অনীহা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো রোগ প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে জটিল হয়ে যায়। তাই আগেভাগেই টিকা গ্রহণ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রাখা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া, অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে দেশে হামের পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত