এনবিআর বিভাজনে নতুন কমিটি গঠন, রাজস্ব সংস্কারে গতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন ও বিভাজন বা বাইফারকেশনের দীর্ঘ আলোচিত প্রক্রিয়ায় আবারও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এবার ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিদ্যমান অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে তা নতুনভাবে সাজিয়ে একটি কার্যকর বিল আকারে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ তৈরিই হবে এই কমিটির প্রধান দায়িত্ব।

সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের কর প্রশাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআরকে দুটি আলাদা কাঠামোয় ভাগ করার যে পরিকল্পনা ছিল, সেটি বাস্তবায়নের পথেই আবারও অগ্রগতি আনতে চায় প্রশাসন।

নবগঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারি সূত্র বলছে, এই কমিটির কাজ হবে বিদ্যমান অধ্যাদেশের খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম। যদিও কমিটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি, তবে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে।

এনবিআর বিভাজনের ধারণাটি নতুন নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজস্ব সংস্কারের জন্য গঠিত একটি বিশেষ কমিটি প্রথমবারের মতো এনবিআরকে দুটি পৃথক কাঠামোয় ভাগ করার সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য একটি অধ্যাদেশও জারি করা হয়। তবে সেই সময়ে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, বিভাজন বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক জটিলতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

পরিস্থিতির কারণে সরকার পরে ওই অধ্যাদেশ সংশোধন করে কিছু পরিবর্তন আনে। তবে শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া থমকে যায়। প্রশাসনিক ক্যাডারের কিছু কর্মকর্তার আপত্তির কারণে পুরো পরিকল্পনা কার্যকরভাবে এগোতে পারেনি।

এরপর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার পরিবর্তনের পর সেই অধ্যাদেশ আর আইনে রূপ নেয়নি, ফলে এর কার্যকারিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায়। তবে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা থেমে থাকেনি।

নতুন করে গঠিত এই কমিটি মূলত সেই স্থবিরতা কাটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত কাঠামো তৈরির চেষ্টা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিকায়নের চাপে রয়েছে। কর আদায় প্রক্রিয়া, নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর মধ্যে যে দ্বৈততা রয়েছে, তা দূর করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, এনবিআরকে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন দুই ভাগে ভাগ করা হলে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়তে পারে। তবে অন্য একটি অংশ মনে করে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এমন বিভাজন প্রশাসনিক জটিলতা আরও বাড়াতে পারে।

সরকারের এই নতুন কমিটি তাই একদিকে যেমন আগের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করবে, অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন পথনকশা তৈরি করার চেষ্টা করবে। এতে করে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রাজস্ব সংস্কারের প্রক্রিয়া আবারও গতিশীল হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এনবিআর বিভাজন ইস্যু আবারও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। নতুন কমিটির সুপারিশই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে দেশের কর প্রশাসন কোন পথে এগোবে এবং কাঠামোগত সংস্কারের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত