প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ২৬৮টি উত্তরপত্র। পরে স্থানীয় এক যুবকের মাধ্যমে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। সৌভাগ্যজনকভাবে সব উত্তরপত্রই অক্ষত ও সিলগালা অবস্থায় থাকায় বড় ধরনের জটিলতা বা অনিয়মের আশঙ্কা এড়ানো গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শাষপুর শহীদ মিনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি ব্রিজের কাছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত রোববার বিকেলে ওই এলাকায় তিনটি বড় প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন মাছিমপুর ইউনিয়নের দত্তেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাহিম মিয়া। প্রথমে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে কৌতূহলবশত প্যাকেটগুলো বাড়িতে নিয়ে যান।
পরদিন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একজন শিক্ষিত ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি বুঝতে পারেন যে প্যাকেটগুলোতে পরীক্ষার উত্তরপত্র থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে রাহিম মিয়া নিজেই শিবপুর মডেল থানায় গিয়ে খাতাগুলো জমা দেন।
খবর পেয়ে শিবপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল ও থানায় উপস্থিত হয়ে খাতাগুলো যাচাই করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন এবং শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন এবং নিশ্চিত হন যে খাতাগুলো এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের উত্তরপত্র।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া তিনটি সিলগালা প্যাকেটে মোট ২৬৮টি উত্তরপত্র ছিল। এগুলো নরসিংদীর মনোহরদী এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, ডাক বিভাগের রানারের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানোর সময় পরিবহনজনিত ত্রুটির কারণে প্যাকেটগুলো ভ্যানগাড়ি থেকে পড়ে যায়।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি জানাজানি হলে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়, কারণ পরীক্ষার উত্তরপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। তবে দ্রুত উদ্ধার এবং অক্ষত অবস্থায় খাতাগুলো পাওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
উদ্ধারকারী রাহিম মিয়া জানান, রাস্তার পাশে প্যাকেটগুলো পড়ে থাকতে দেখে তিনি সাধারণ কাগজপত্র ভেবে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বুঝতে পারেন এগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার খাতা। দায়িত্ববোধ থেকে তিনি কোনো বিলম্ব না করে সেগুলো থানায় জমা দেন।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন জানান, খাতাগুলো অক্ষত ও সিলগালা অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল বা মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরে খাতাগুলো পুনরায় সিলগালা করে উপজেলা পোস্ট অফিসে সংরক্ষণের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে পরিবহনজনিত অসতর্কতার কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসামগ্রী পরিবহন ব্যবস্থায় আরও সতর্কতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার উত্তরপত্র পরিবহন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। এতে সামান্য অবহেলাও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানো হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে রোধ করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা ২৬৮টি উত্তরপত্রের এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়াই সমাধান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে।