প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কালে কোম্পানিটির আয় ও মুনাফা উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় স্কয়ার ফার্মার আয় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। একই সময়ে নিট মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি দেশের ওষুধ খাতে স্থিতিশীল চাহিদা, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় বেড়েছে প্রায় ৭২৩ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১২ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
অন্যদিকে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকায়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ১ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফাও (ইপিএস) এ সময়ে উন্নতি করেছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ২৯ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ২১ টাকা ১৫ পয়সা। পাশাপাশি ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬৯ টাকা ৭৯ পয়সা।
স্কয়ার ফার্মার এই প্রবৃদ্ধি বাজার বিশ্লেষকদের মতে শুধু অভ্যন্তরীণ বিক্রির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানির অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া ওষুধের একটি বড় অংশ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে, যা কোম্পানির আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এর আগে সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। ওই বছরে স্কয়ার ফার্মার শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ২৭ টাকা ৪ পয়সা, যা আগের বছরের ২৩ টাকা ৬১ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ১৫৭ টাকা ৮৮ পয়সায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৈশ্বিক কাঁচামালের দাম, মুদ্রার বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে।
১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন বর্তমানে ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮৮৬ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, যা দেশের ওষুধ খাতে অন্যতম শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে স্কয়ার ফার্মার মোট শেয়ার সংখ্যা ৮৮ কোটি ৬৪ লাখ ৫১ হাজার ১০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে বাকি ২৬ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির কারণে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পুঁজিবাজারে একটি নির্ভরযোগ্য কোম্পানি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি কোম্পানিটি ভবিষ্যতে আরও বৈশ্বিক বাজারে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক পারফরম্যান্স দেশের কর্পোরেট খাতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারী মহলে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।