বেক্সিমকো ঋণ জালিয়াতি : নথি সংগ্রহে দুদক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
বেক্সিমকো ঋণ তদন্ত

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপকে ঘিরে ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গ্রুপটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠান খুলে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার তদন্তে অগ্রগতি আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে ঋণ অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র, লেনদেনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের তথ্য।

একই সঙ্গে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক। সংস্থাটির দাবি, এসব ঋণের একটি বড় অংশ ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি এ অভিযোগে দুদক মোট ১০টি মামলা দায়ের করেছে। মামলাগুলোর তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন, সংগৃহীত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে বেনামি কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের পদ্ধতিও উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে পৃথক এক ঘটনায় আদালত ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া এই আদেশের মাধ্যমে তার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হবে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং প্রায় ১৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, আয়কর নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচারের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

দুদকের তদন্ত দল বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে কীভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ একাধিক স্তরের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের তদন্ত দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তারা মনে করেন, শুধু তদন্ত নয়, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে এসব অর্থ আত্মসাতের ঘটনা থেকে পুরোপুরি শিক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষও এ ধরনের বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাদের মতে, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা কীভাবে বেরিয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন তা ধরা না পড়া—এটি আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই প্রতিফলন।

দুদক জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নথি সংগ্রহ করা হবে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন মামলা বা আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

সব মিলিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপকে ঘিরে ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের এই তদন্ত দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফল কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল এবং সাধারণ মানুষের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত