প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীর টিবি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ এবং শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধে ব্যবহৃত ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় দেশে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ এবং প্রায় ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ও ওষুধ দেশের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই এবং আগামীকাল থেকেই এসব উপকরণ দেশের সব টিকাদান কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
ভ্যাকসিন সংক্রান্ত একটি সাম্প্রতিক সংবাদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় তথ্য যাচাই না করেই ভুলভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তিনি দাবি করেন, দেশে পোলিও ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই এবং সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে স্বাভাবিক ও কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে হামের প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে এই কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি, বিশ্বব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬১ শতাংশ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তার আশা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় আসবে। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে ইতোমধ্যে হামের কোনো নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায় এবং সরকার এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠসহ কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোগ প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে মশক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমই মূল ভূমিকা রাখে। তাই নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সহযোগিতা করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলমান টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সব মিলিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য খাতে চলমান উদ্যোগগুলোকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।