তাপপ্রবাহের অবসান, দেশে নামছে ভারী বৃষ্টির পরশ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কয়েকদিনের অসহনীয় তাপপ্রবাহের পর দেশজুড়ে স্বস্তির পরশ নিয়ে এসেছে প্রবল বর্ষণ। অস্বাভাবিক ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখনই বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত মানুষের মনে এনে দিয়েছে প্রশান্তির ছোঁয়া। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলেই কমবেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলমান বৈরী আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫১টি আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে। এর মধ্যে ফেনীতে সর্বোচ্চ ১৬৮ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ১১৪ মিলিমিটার, ভোলায় ১০১ মিলিমিটার, মানিকগঞ্জে ৮৫ মিলিমিটার এবং বরিশালে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর বাইরে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবে তার মাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি ছিল মাঝারি তাপপ্রবাহের সীমা। এর আগের কয়েকদিন দেশের একাধিক অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলমান ছিল, যা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

বৃহস্পতিবার সকালেই আবহাওয়া অধিদপ্তর নিশ্চিত করে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে ঘণীভূত হয়ে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সংস্থাটি জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যান্য অংশে মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, যা এই বৃষ্টির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ।

আবহাওয়াবিদ তরিকুল নেওয়াজ কবির জানান, বুধবার রাতে পূর্বাঞ্চলে তৈরি হওয়া মেঘমালা উত্তর দিকে সরে গিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। এরপর আজ সকালে উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া লঘুচাপটি উপকূলীয় অঞ্চলে আরও সুস্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলছে। এর ফলেই মধ্য ও অন্যান্য অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে দেশের ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল, তা এখন কমে আসার পথে। আজ বৃহস্পতিবার সাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার থেকেই সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা বেশি থাকবে এবং এটি ২৮ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।”

বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) আরও একধাপ এগিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছরের নবম বৃষ্টি বলয় ও পঞ্চম মৌসুমী বৃষ্টি বলয়টি ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বিভাগ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মৌসুমী বৃষ্টি বলয় যা দেশের ১০০ শতাংশ এলাকায় সক্রিয় হতে পারে। সংস্থাটি বলছে, এটি আগামী ২ আগস্ট রংপুর অঞ্চল হয়ে বাংলাদেশ ছাড়বে।

তারা আরও জানায়, প্রথম ধাপে আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দেশের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। ২৬ জুলাই দক্ষিণাঞ্চল বাদে অন্যান্য অঞ্চলে সাময়িক বিরতি দিলেও পরদিন রাত থেকে ফের এক দফা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। দেশের মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এর প্রভাব আগে থেকেই বেশি দেখা যাবে।

বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে শহর ও গ্রামে মানুষ যেমন স্বস্তি পেয়েছে, তেমনি কৃষি খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে যেমন জলসংকট দূর হবে, অন্যদিকে খরার আশঙ্কাও কমবে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃষ্টিপাতের মাত্রা নির্ধারণে বিভিন্ন পরিমাপ রয়েছে। ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে ‘অতিভারী’ ধরা হয়, আর ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রাকে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ৩৮-৩৯.৯ হলে ‘মাঝারি’ এবং ৪০-৪১.৯ ডিগ্রির মধ্যে হলে ‘তীব্র তাপপ্রবাহ’ বলে ধরা হয়।

সব মিলিয়ে, বর্ষার পরিপূর্ণতা পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। দেশের আকাশে নামছে শ্রাবণের ভারী পরশ। আর সেই বৃষ্টির ধারায় ধুয়ে-মুছে যাচ্ছে গ্রীষ্মের অতিষ্ঠতা, যা আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত জারি থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত