জুলাই কেন মানি মেকিং মেশিন?’কাঁদলেন উমামা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৮ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

একসময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রাণ ছিলেন তিনি। রাজপথে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন, শ্লোগানে শ্লোগানে কাঁপিয়েছেন রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্ত। কিন্তু সময়ের আবর্তনে সেই প্রিয় আন্দোলনকেই আজ আর চেনেন না উমামা ফাতেমা। নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রশ্ন তোলেন, “জুলাই কেন মানি মেকিং মেশিন হবে?”

রোববার রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ধরে চলা ফেসবুক লাইভে উমামা তার অভিজ্ঞতা, হতাশা ও ক্ষোভ উগরে দেন। সরাসরি বলেন, আন্দোলন নিয়ে এখন যে বাণিজ্য চলছে, তা একদিকে যেমন রাজনৈতিক অঙ্গনের নৈতিক অবক্ষয়কে তুলে ধরে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের জন্য এটি ভয়ংকর এক বার্তা বহন করে।

লাইভে উমামা বলেন, “আমরা যখন ছাত্র ফেডারেশন করতাম, তখন ৩০-৪০ জন মিলে মিছিল করতাম। বলতাম ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’। কিন্তু কোনোদিন কল্পনাও করিনি এই শ্লোগান দিতে দিতে শিশুসহ মানুষ জীবন দেবে। আমরা একটা স্বপ্ন দেখছিলাম— বৈষম্যহীন এক সমাজের।”

কিন্তু সময়ের সাথে সেই স্বপ্ন যেন অচিরেই বিভীষিকায় রূপ নেয়। জুলাই-আগস্টে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে আজ প্রশ্নবিদ্ধ। উমামার মতে, “৫২ বা ১৫৮ জন সমন্বয়ক নিয়েও কাজ হয়নি। বরং যাদের হাতে আন্দোলনের ব্যাটন ছিল, তারা নিজেরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। জুলাইয়ের মতো ঐতিহাসিক একটি ঘটনা এখন কারো কারো কাছে শুধুই টাকা কামানোর উৎস।”

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের একাংশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নামে যখন রাজধানীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে এবং গুলশানে এক সাবেক এমপির বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তা সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে গোটা জাতির মনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তার প্রেক্ষাপটেই উমামার এই আবেগময় লাইভ।

তিনি বলেন, “আমি কখনোই ভাবিনি, জুলাই আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে কেউ ডিসি নিয়োগের লবিং করবে, টেন্ডার নিয়ে ব্যবসা করবে, চাকরির তদবির চালাবে। কিন্তু আজ বাস্তবতা তা-ই। আমি মুখপাত্র হওয়ার পর দেখেছি এই প্ল্যাটফর্মকে বাণিজ্যের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি এক ভয়াবহ ও লজ্জার বিষয়।”

উমামা স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিনি। কিন্তু সত্য বলার জন্যই আমি বহু শত্রু তৈরি করেছি। আমাকে খারাপ বলার মানুষ যেমন আছে, তেমনি জেলায় জেলায় গিয়ে দেখেছি ভালো কিছু করতে চাওয়া অনেক তরুণ আছে। তারাই এই দেশটাকে পুনর্গঠন করবে।”

তিনি লাইভে আরও বলেন, “অনেকে বলেন আমি কোটি কোটি টাকা কামিয়েছি! আমি বলি, আমার কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। আমি ভালো পরিবারের সন্তান। আমার স্কলারশিপও ছিল। পরিবার চায় আমি দেশের জন্য কিছু করি, আর আমি সেটাই করছি।”

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উমামা। তিনি বলেন, “আজ যদি প্ল্যাটফর্মের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তাহলে এর দায় কার? হয়তো সময় এসেছে নতুনভাবে ভাবার, নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করার।”

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উমামার এই অকপট স্বীকারোক্তি এবং আবেগঘন কথোপকথন নতুন করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে রাজপথ-নির্ভর ছাত্র আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। একইসঙ্গে উন্মোচন করেছে আন্দোলনের ভেতরে জন্ম নেওয়া এক ভয়ানক অসুস্থ বাস্তবতা, যা হয়তো কোনো প্রজন্মকেই উপেক্ষা করার সুযোগ দেবে না।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত