প্রকাশ: ২৯শে জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গণতান্ত্রিক পন্থায়ই বাংলাদেশে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে এবং অন্য কোনও উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই দায়িত্ব হস্তান্তর হবে। ক্ষমতায় যেই আসুক। অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের ফন্দি-ফিকির ৫ আগস্টের মতোই প্রতিরোধের মুখে পড়বে।”
তাঁর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদার করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি মহলে ও প্রশাসনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোয় নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্বাচনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬০ হাজার সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ঠেকাতে গঠিত হচ্ছে ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার’। এটি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য ও প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করবে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্বাচনী কাজে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এর আগে সোমবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতিমালা, সন্ত্রাস দমন, আসন্ন নির্বাচন এবং ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর সরকার সন্ত্রাসবাদ রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।
দেশের রাজনীতিতে যখন নানা মেরুকরণ ও অস্থিরতার আভাস দেখা দিচ্ছে, তখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই আশ্বাস এবং নির্বাচনি প্রস্তুতির এই কঠোর আয়োজন আগামী দিনের জন্য গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। একদিকে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় থাকছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলে গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাপনা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে।
“গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ছাড়া ক্ষমতার পালাবদল আর সম্ভব নয়”—আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশের মানুষ আর কখনও অগণতান্ত্রিক পথে ফিরে যেতে রাজি নয়।