বাংলাদেশ পুলিশের মানবাধিকার অঙ্গীকারের প্রশংসা জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের—আইজিপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ পুলিশের মানবাধিকার সংক্রান্ত কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ প্রতিনিধি ড. মরিস টিডবল বিন্জ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রমনায় অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরে তিনি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

ড. মরিস টিডবল বিন্জ জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার অন এক্সট্রা জুডিশিয়াল, সামারি অর অ্যারবিট্রেরি এক্সিকিউশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন, ময়নাতদন্ত ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার সংরক্ষণে নেওয়া উদ্যোগ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে চলমান প্রাতিষ্ঠানিক জিরো টলারেন্স নীতিমালার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। আইজিপি বাহারুল আলম এ সময় বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকারের মৌলিক নীতিগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড বজায় রাখতে পুলিশ বাহিনীকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করতে দেশের বিভিন্ন থানায় ফরেনসিক ইউনিট স্থাপন, ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. কামরুল আহসান এবং অতিরিক্ত ডিআইজি (স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনআরবি অ্যাফেয়ার্স) মো. আশিক সাঈদ। তারা পুলিশ বাহিনীর মানবাধিকার বিষয়ক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের লক্ষ্যে চলমান কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

ড. টিডবল বিন্জ এ সময় বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মানবাধিকার সম্মত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার নীতিতে অটল থাকা যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য একটি শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। বাংলাদেশ এই পথে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে।”

বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে প্রশ্ন ওঠে, এ ধরনের সাক্ষাৎ ও সমঝোতা কার্যক্রম সে প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে সহযোগিতা ও নির্ভরতার এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত