বাবার বিদায়ী ছবির জন্য পিছিয়ে গেল ছেলের অভিষেক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৪১ বার
বাবার বিদায়ী ছবির জন্য পিছিয়ে গেল ছেলের অভিষেক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা থালাপাতি বিজয় অভিনয়জীবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে রাজনীতিতে পূর্ণ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তাকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এতটুকুও কমেনি। বরং তার বিদায়ী সিনেমা ‘জন নায়াগান’ এখন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, সেন্সর জটিলতা এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে সিনেমাটি আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে। মুক্তির আগেই ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড সাড়া মিলেছে, যা বিজয়ের জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

এই উন্মাদনার মধ্যেই এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। বিজয়ের ছেলে জেসন সঞ্জয় পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সিগমা’-র মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে সিনেমাটি ৩১ জুলাই মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটি আগস্টে মুক্তি দেওয়া হবে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, একই সময়ে মুক্তি পেলে থালাপাতি বিজয়ের বিদায়ী সিনেমার ব্যাপক আলোচনার মধ্যে জেসনের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রটি প্রত্যাশিত দর্শক ও প্রচার পাবে না। ফলে নতুন পরিচালক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশকে আরও শক্তিশালী করতে কৌশলগতভাবে মুক্তির সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জন নায়াগান’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বিজয়ের অভিনয়জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দর্শকদের কাছে বিশেষ আবেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বহু বছর ধরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেতা বর্তমানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অভিনয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে ‘জন নায়াগান’কে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

চলচ্চিত্র ব্যবসা বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা মুক্তি পেলে নতুন নির্মাতা হিসেবে জেসন সঞ্জয়ের প্রথম কাজটি প্রয়োজনীয় মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারত। বিশেষ করে যখন একটি সিনেমা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় তারকার বিদায়ী চলচ্চিত্র, তখন দর্শক, গণমাধ্যম এবং প্রেক্ষাগৃহের অধিকাংশ মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই সেই ছবির দিকেই থাকে। এ কারণেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মুক্তির সময় পরিবর্তনকে বাস্তবসম্মত ও বাণিজ্যিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করেছে।

জেসন সঞ্জয়ের যাত্রাটিও অন্য অনেক তারকাসন্তানের চেয়ে কিছুটা আলাদা। চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি অভিনয়ের পরিবর্তে পরিচালনাকে নিজের ক্যারিয়ারের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি নিজেকে শুধু ‘স্টারকিড’ পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। বাবার রাজনৈতিক জীবনের পর নিজের পরিচয়ে স্বতন্ত্রতা আনতে তিনি নিজের নামের সঙ্গে বাবার নামের আদ্যাক্ষর ব্যবহার না করে মায়ের নামের আদ্যাক্ষর ব্যবহার শুরু করেন। এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই তার স্বাধীন পরিচয় গড়ে তোলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাণে পেশাদার প্রস্তুতি নিতেও কোনো ঘাটতি রাখেননি জেসন। তিনি কানাডার টরন্টো ফিল্ম স্কুল থেকে ফিল্ম মেকিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। এরপর যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল ফিল্ম স্কুল, লন্ডন থেকে চিত্রনাট্য লেখার ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক মানের এই প্রশিক্ষণ শেষে নিজস্ব গল্প বলার ভাষা ও নির্মাণশৈলী নিয়ে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করছেন।

জেসনের পরিচালনায় নির্মিত ‘সিগমা’ একটি অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার এবং ক্রাইম-কমেডি ঘরানার সিনেমা। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা সন্দীপ কিষাণ। তার বিপরীতে রয়েছেন অভিনেত্রী ফারিয়া আবদুল্লাহ। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাইকা প্রোডাকশনস, যারা এর আগে একাধিক বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে।

চলচ্চিত্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিনেতা ও কলাকুশলীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম সিনেমা পরিচালনা করলেও জেসনের কাজের ধরন ছিল অত্যন্ত পরিণত। শুটিং সেটে পরিকল্পনা, দৃশ্য বিন্যাস, শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাস দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। তাদের মতে, নতুন পরিচালক হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নির্মাতার মতোই তিনি পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন।

অন্যদিকে ‘জন নায়াগান’ নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ সেন্সর জটিলতা এবং আইনি বাধা অতিক্রম করে অবশেষে ছবিটি মুক্তির অনুমতি পেয়েছে। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রির হার দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন শহরের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে প্রথম সপ্তাহের অধিকাংশ প্রদর্শনীর টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে বিজয়ের বিদায়ী সিনেমার আবেগ এবং দর্শকপ্রত্যাশা এতটাই তীব্র যে একই সময়ে অন্য কোনো বড় সিনেমা মুক্তি দেওয়া বাণিজ্যিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে নতুন পরিচালকের প্রথম চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রচার ও দর্শকসংযোগ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় ‘সিগমা’র মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাবা-ছেলের এই ভিন্নধর্মী অধ্যায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে একজন সুপারস্টার অভিনয়জীবনের ইতি টানছেন, অন্যদিকে তারই ছেলে নতুন নির্মাতা হিসেবে চলচ্চিত্রে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে প্রস্তুত হচ্ছেন। দর্শকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এটি শুধু একটি সিনেমার মুক্তির তারিখ পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং একই পরিবারের দুই প্রজন্মের শিল্পযাত্রার এক আবেগঘন সংযোগ।

এখন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দৃষ্টি একদিকে থালাপাতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বিদায়ী সিনেমা ‘জন নায়াগান’-এর দিকে, অন্যদিকে আগস্টে মুক্তি পেতে যাওয়া জেসন সঞ্জয়ের প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘সিগমা’-র দিকে। দুই প্রজন্মের এই দুই ভিন্ন যাত্রা ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, আর দর্শকরাও অপেক্ষায় রয়েছেন—একজন কিংবদন্তির বিদায় এবং আরেক নির্মাতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com