সর্বশেষ :
টানা ২ দফায় রুপার দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকা বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু, স্পিকার নির্বাচনে আলোচনা কাতারের প্রতিমন্ত্রী জানালো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের শত্রু নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতিতে যোগ্যতার শর্ত দিলেন এমপি মাজেদ ঢাকা ওয়াসার নতুন এমডি সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম নিযুক্ত বুধবারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতার ব্যবসায় হামলায় কর্মী গুরুতর জখম স্বর্ণের দাম টানা দুই দফায় ৫ হাজারের বেশি বেড়েছে ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক কাইল ওয়ালকার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাস অব্যাহত, মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

এলিট বনাম নমশূদ্র: সাংবাদিকতা কি এখনও বিভাজনের শিকার?

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫
  • ৯৬ বার

প্রকাশ: ৩১ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা আজও গভীর সংকটে—এ সংকট কেবল রাজনৈতিক চাপ কিংবা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার নয়, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্রেণিবৈষম্যের, যার নাম “এলিটিজম”। জাতীয় প্রেসক্লাবে “ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান” উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এমনই কঠোর মন্তব্য করেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও বিশিষ্ট মতাদর্শিক সাংবাদিক ড. মাহমুদুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অন্যতম বড় বাধা হল এলিটিজম, যা সাংবাদিকদের মধ্যেই এক শ্রেণিবিভাগ সৃষ্টি করেছে। তার ভাষায়, “একদল হলেন ব্রাহ্মণ সম্পাদক—যারা সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবের সদস্য; আর অন্যদিকে নমশূদ্র সম্পাদক—যাদের কথাও শোনা হয় না, ঠাঁইও মেলে না। আমরা যারা সম্পাদক পরিষদে নেই, নোয়াবে নেই, আমরা সেই নমশূদ্র সম্পাদক।”

আলোচনায় ড. মাহমুদুর রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, কীভাবে কয়েক বছর আগে মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান তাকে নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে নিয়ে এক বিবৃতিতে স্বাক্ষরের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই বিবৃতিতে তার সহকর্মী আবদুল্লাহর ওপর হামলার কথা না থাকায় তিনি স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকেন। “আমার সহকর্মী আক্রান্ত হয়, আমার গাড়ি ভাঙচুর হয়, আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়—কিন্তু কোনও সম্পাদক, কোনও সংগঠন বিবৃতি দেয় না। অথচ এক এলিট সাংবাদিকের জন্য বিবৃতি নিতে আমার কাছে আসা হয়।”

তিনি বলেন, এই একমুখী সহানুভূতি সাংবাদিকতার এক বড় সমস্যা। “বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এখনও ব্রাহ্মণ-নমশূদ্র ব্যবস্থায় আবদ্ধ। যতদিন না আমরা সবাইকে এক চোখে দেখতে শিখব, ততদিন মুক্তি আসবে না।”

নিজের পরিচালিত আমার দেশ পত্রিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কখনো কোনও রাজনৈতিক দলের ‘মুখপত্র’ ছিল না, বরং তার নিজস্ব বিবেক ও আদর্শ থেকেই পত্রিকাটি পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার দেশের লড়াই ছিল গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। তাতে লাভবান হয়েছে বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত—তবে তারা আমাদের কখনো নির্দেশ দেয়নি কী ছাপাতে হবে।”

তৎকালীন বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তিনি আমাদের পত্রিকা নিয়ে জনসভায় কথা বলতেন, আমাদের পক্ষে বলতেন, তাই সবাই ধরে নিয়েছিল আমার দেশ বিএনপিপন্থি। এই লেবেলিংয়ের কারণেই আমার ওপর নির্যাতন জায়েজ মনে করা হতো।”

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতার পরিসরে ইসলামপন্থিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করাও ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। “আমি ও আবুল আসাদ ভাই, আমরা যারা ইসলামপন্থি সাংবাদিক, আমাদের বারবার নিগৃহীত হতে হয়েছে। অথচ কোনো এলিট সম্পাদক আমাদের পক্ষে বিবৃতি দেন না।”

তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১২৫টি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ১৭টি মামলায় ওয়ারেন্ট জারি আছে। “পুলিশ চাইলে এখনই গ্রেপ্তার করতে পারে। যারা এখন ক্ষমতায় আছে বা ভবিষ্যতে আসবে, তাদের ভাবনা হলো—আর নতুন করে মামলা দিতে হবে না, আগের মামলাই যথেষ্ট।”

আমার দেশ পত্রিকার বিজ্ঞাপন বঞ্চনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনও বিজ্ঞাপন পাইনি। এখনো পাই না। কারণ বেসরকারি বিজ্ঞাপনও নিয়ন্ত্রণ করে একটি এজেন্সি—এশিয়াটিক, যার মালিক একজন প্রাক্তন মন্ত্রী। তারা এখনো ক্ষমতাবান। সিগন্যাল দিলেই সব বন্ধ হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সাংবাদিকদের অনেকেই সুবিধাবাদী—তারা জানে কখন কাকে খুশি করতে হয়। কিন্তু আমার দেশ কখনও সেই পথে হাঁটেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।”

অবশেষে, তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “বিপ্লব না ঘটলে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না। প্রেস কাউন্সিলের সাম্প্রতিক তালিকা দেখলেই বোঝা যায়—সব ব্রাহ্মণ সম্পাদক, কোনও নমশূদ্র নেই। আজকের আলোচনায় আমি ও আসাদ ভাই নমশূদ্র সম্পাদক হিসেবে এসেছি, কারণ আমরা ইসলামী কথা বলি—এটাই আমাদের অপরাধ।”

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ভবিষ্যত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার সন্দেহ আছে, আদর্শগত ঐক্য ছাড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ভবিষ্যতে আদৌ আসবে কিনা। আমাদের উচিত ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকতার আদর্শকে সামনে রেখে একতাবদ্ধ হওয়া। তবেই প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে—তার আগে নয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত