প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশজুড়ে শোক আর উদ্বেগের আবহে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর টানা তৃতীয় দফায় ছুটি শেষে অবশেষে আজ রোববার সীমিত পরিসরে খুলছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ক্লাস বা পাঠদান কার্যক্রম আজও শুরু করা হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্ত এসেছে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে।
শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল। তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আবেগিক চাপের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এ কারণে ধাপে ধাপে এবং সংবেদনশীলভাবে প্রতিষ্ঠান চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়মিত কাউন্সেলিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে করে শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য ফিরে পেতে পারেন।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে পরিচালিত একটি বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্পও কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য শারীরিক ও মানসিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী এবং ট্রমা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি ভয়াবহ সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী প্রত্যক্ষদর্শী হন এবং কিছু শিক্ষার্থীর পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার মানসিক অভিঘাত এবং পরবর্তী উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ছুটি বাড়ায়।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়। কারণ, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করলে তা তাদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ধাপে ধাপে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। আজ শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিতভাবে চলবে এবং শিক্ষার্থীদের আগমন একেবারেই স্বেচ্ছাসাপেক্ষ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন মানবিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের শিক্ষানীতিতে মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা।